আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হওয়া এ পরীক্ষা চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে।
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন।
এ বছর প্রথমবারের মতো ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁস রোধে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সব বোর্ডে একই মানদণ্ডে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।
সারা দেশের ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ৪০টি ঢাকায়।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ৩৫ দফা নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গঠন করা হয়েছে বিশেষ সিসিটিভি মনিটরিং সেল। এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে। প্রতিটি পরীক্ষাকক্ষে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষপরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন, তবে কোনো কক্ষে দুইজনের কম কক্ষপরিদর্শক রাখা যাবে না।
প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুস্তরীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র যাচাই, পুলিশের পাহারায় কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া এবং নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সেটের বাইরে কোনো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস, জালিয়াতি বা যেকোনো অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী অনিয়মে জড়িত থাকলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও জানান, এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজব ছড়ালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁসের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে সারা দেশে ওই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন প্রশ্নপত্রে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে।
ম্যাংগোটিভি /আরএইচ
