ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো পরমাণু চুক্তি ছাড়াই যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এর বিনিময়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
রোববার (৯ আগস্ট) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য পথ খুঁজছেন ট্রাম্প। ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন পরমাণু চুক্তি না হলেও যুদ্ধ থেকে সরে আসতে পারেন। এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করাকে যুদ্ধ বন্ধ ও যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানও বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কয়েক শ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এসব শর্ত থেকে বোঝা যায়, তেহরান দ্রুত কোনো সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করে। ফলে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত এর প্রভাব পড়ে।
এর আগে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ওয়াশিংটন অবশ্য ইরানের এসব বিধিনিষেধ ও টোল আরোপের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করে।
এদিকে ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে গেছে। তবে সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে এখনো চাপ রয়েছে।
সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় সামরিক অভিযান থেকে অর্জন তুলে ধরার রাজনৈতিক চাপও ট্রাম্পের ওপর বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচল করা গেলে সেটিকে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে নতুন পরমাণু চুক্তির শর্ত থেকেও সরে আসার বিষয়টি বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ম্যাংগোটিভি / আরএইচ
