জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে একের পর এক বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হচ্ছে না। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার কথা বললেও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট দপ্তরে আটকে আছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাট সি ওয়ার্ল্ডের হলরুমে উপজেলা এনসিপি আয়োজিত মতবিনিময় ও যোগদান সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা নির্বাচন অতিদ্রুত দিয়ে দেব। মীর শাহে আলম বলেন, কিছুই জানি না। নির্বাচন কমিশন বলে, রাজা-বাদশা মহোদয়, আপনি যা বলেছেন তাহাই শিরোধার্য। পরবর্তীতে আবার মিটিং ডাকছে। নির্বাচন নিয়ে মিটিং হয়, দিন যায়, রাত আসে—কোনো সমাধান হয় না।’
তিনি বলেন, ‘সমাধান এক দপ্তরেই আটকে আছে, সেটা হলো বাংলাদেশের নব্য ফ্যাসিবাদের পাহারাদার তারেক রহমানের দপ্তর।’
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষায়, আওয়ামী লীগ ভারতের ‘দালাল’ এবং বিএনপি মানুষের পকেট কেটে চাঁদাবাজি করছে। এসব থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট-সাধনা করে এই বৈপ্লবিক পরিস্থিতি থেকে একটি গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির দিকে যাত্রা করেছি। আমরা চেয়েছিলাম বাংলাদেশে সংস্কার হবে। আপনারা বলেছিলেন, আগে নির্বাচন দেন, তাহলে বাংলাদেশে সংস্কার হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, নির্বাচন হয়ে গেলেও চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি; বরং এগুলো বেড়েই চলেছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ড কারা করছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি এ এম মুন্না চৌধুরী। সঞ্চালনা করেন জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ সিফাত হোসেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জুবাইরুল হাসান আরিফ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার আহ্বায়ক একরামুল হক ও চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি মীর মোহাম্মদ শোয়াইবসহ দলটির নেতারা।
ম্যাংগোটিভি / আরএইচ
