সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা প্রকাশ করেছে সরকার। শনিবার (৩ে১ অক্টোবর) গেজেট আকারে প্রকাশিত এ বিধিমালা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন ও লাইসেন্স ছাড়া কোনো ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না।
বিধিমালায় নিবন্ধন, ফি, চলাচলের সড়ক, গতি নিয়ন্ত্রণ, পার্কিং, চার্জিং এবং চালকদের জন্য বিভিন্ন শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো হলো-
১. নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক
সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে পারবে না। নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি নিবন্ধন দেওয়া হবে। নিবন্ধনের সঙ্গে থাকবে কিউআর কোডযুক্ত ইউনিক নম্বর ও নম্বর প্লেট।
২. নিবন্ধন ও নবায়ন ফি নির্ধারণ
গেজেটের তফসিল অনুযায়ী, দুই যাত্রীর রিকশার নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা। চার যাত্রীর রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা।
৩. আবেদন বাতিল হলে আপিলের সুযোগ
কোনো আবেদন নামঞ্জুর হলে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে। আদেশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করা যাবে। আপিলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
৪. একটি জাতীয় পরিচয়পত্রে পাঁচটি রিকশা নিবন্ধন
একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে। তবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।
৫. মান ও ফিটনেস সনদ বাধ্যতামূলক
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত মানদণ্ড, ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিকশার নিবন্ধন বা নবায়ন করা যাবে না। প্রতিটি রিকশার আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ বছর। এ সময়সীমা শেষ হলে নিবন্ধন বাতিল হবে। রিকশায় স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার লাগানো বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি ধাপে ধাপে এসব যানবাহনকে বিমার আওতায় আনা হবে।
৬. যেসব সড়কে চলতে পারবে না
মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, উড়াল এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের করিডর, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সড়ক এবং ফুটপাতে ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না।
৭. চালকদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম
ই-রিকশাচালকদের সব সময় সড়কের বাঁ লেন দিয়ে চলতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। অনিয়মিতভাবে ওভারটেকিং ও লেন পরিবর্তনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৮. জোনভিত্তিক চলাচল ও পার্কিং
সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে জোনভিত্তিক রুট নির্ধারণ করবে। এক জোনে নিবন্ধিত রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। এ ছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রয়োজন অনুযায়ী পার্কিংয়ের জায়গা নির্ধারণ করা হবে।
৯. নির্ধারিত স্থানে চার্জ ও আইন অমান্যে শাস্তি
ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে হবে শুধু লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা গ্যারেজে। এসব স্থানে নবায়নযোগ্য বা সৌরশক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
ত্রুটিযুক্ত ও নিবন্ধনবিহীন রিকশার চলাচল বন্ধে ট্রাফিক বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে অথবা আলাদাভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
ম্যাংগোটিভি / আরএইচ
