Sunday, September 27

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৩৫টি এলাকা ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব এলাকায় বাড়িঘরে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চললেও অক্টোবরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কীটতত্ত্ববিদেরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে। একই সময়ে মৃত্যুর হার বেড়েছে তিন গুণের বেশি। শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৬ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩৫ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মারা গেছেন অন্তত ১১৭ জন।

এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি চলছে। এর মধ্যেও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এডিসের লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। দুই সিটি করপোরেশনের ৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দেড় শতাধিক হটস্পট রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৮টি এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, মহাখালী, গুলশান, বাড্ডা ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকা।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৭টি এলাকায় হটস্পট রয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে ধানমন্ডি, শাহবাগ, সেগুনবাগিচা, খিলগাঁও, লালবাগ ও যাত্রাবাড়ী উল্লেখযোগ্য।

নগরবাসীকে সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করার কথা জানিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, অনেক এলাকায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত লার্ভা পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় জরিমানাও করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, যেসব এলাকায় লার্ভা পাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালানো হচ্ছে এবং জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। আইন প্রয়োগ আরও শক্তভাবে করারও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কীটতত্ত্ববিদেরা বলছেন, সেপ্টেম্বরই ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ আক্রান্তের সময় নয়। অক্টোবরে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, কোন মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ হবে, তা বর্তমানে চলমান ক্রাশ প্রোগ্রামের কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করছে। অক্টোবরে ডেঙ্গু সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কার্যকরভাবে ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও রাখা সম্ভব।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গু রোগীর পরিসংখ্যানে শুধু হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের তথ্য রয়েছে। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্য অধিদপ্তরের হিসাবের আওতায় নেই।

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version