দেশের শেয়ারবাজারে টানা দুই কার্যদিবসের উত্থানে প্রধান সূচক প্রায় ৪৫ পয়েন্ট পুনরুদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৮৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর ) সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এদিন অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরও বেড়েছে।
তবে সূচক ও লেনদেনে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দিলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পুরোপুরি আস্থা ফেরেনি। নতুন করে শেয়ার কেনাবেচায় সক্রিয় হওয়ার পরিবর্তে অনেকেই এখনো বাজারের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ সময়ের দরপতনে বাজারের সূচক ও লেনদেন দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ সময়ে অনেক বিনিয়োগকারীর কেনা শেয়ার লোকসানে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে বিনিয়োগের ঝুঁকি না নিয়ে অনেকে বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন। আগামী কয়েক দিন সূচক ও লেনদেনের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। এতে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। তবে এ জন্য দরপতন ঠেকানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেড়েছে ডিএসইর সব প্রধান সূচক
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২২ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৫২ দশমিক ০৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসেও সূচকটি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ফলে দুই কার্যদিবসে প্রধান সূচকটি প্রায় ৪৫ পয়েন্ট পুনরুদ্ধার করেছে।
এদিন ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৫ দশমিক ৫১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৭ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ৩ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৯৬ দশমিক ৫০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
বৃহস্পতিবার ডিএসইতে ৩৮৫টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৪০টির দর বেড়েছে, ৯০টির কমেছে এবং ৫৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ দিনটিতে দর বাড়ার তালিকায় ছিল অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান।
এদিন ডিএসইতে মোট ৪৯৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪১৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৮৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
সিএসইতেও সূচক ও লেনদেন বেড়েছে
দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। বৃহস্পতিবার সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬০ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৫৭৬ দশমিক ৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের কার্যদিবসে সূচকটি ১৭ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট কমেছিল।
দিনটিতে সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৯টির দর বেড়েছে, ৩৩টির কমেছে এবং ২০টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এদিন শেয়ার ও ইউনিট মিলিয়ে বাজারটিতে মোট ২০ কোটি ৫৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
লেনদেনের শীর্ষে সায়হাম টেক্সটাইল
বৃহস্পতিবার টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের শেয়ারে। কোম্পানিটির ৩০ কোটি ৪১ লাখ ৯১ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
১৬ কোটি ৪২ লাখ ২৮ হাজার টাকার লেনদেন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সোনালী আঁশ। আর ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বিএসআরএম স্টিলস লিমিটেড।
লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং, ইভিন্স টেক্সটাইল, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, এসআইপিএলসি ও ওরিয়ন ইনফিউশন।
দর বৃদ্ধির শীর্ষে ফারইস্ট নিটিং
এদিন ডিএসইতে শেয়ারদর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১১ দশমিক ৯৭ শতাংশ। দিনটিতে ২ হাজার ৩৫৪ বারে কোম্পানিটির ৫১ লাখ ১৭ হাজার ৫৫৯টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার বাজারমূল্য ১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
দর বৃদ্ধির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। আর ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ দর বেড়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে কপারটেক।
দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আরডি ফুড, গোল্ডেন সন, আইসিবি সোনালী ব্যাংক ওয়ান, প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স এবং ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বা ইউনিটদর ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
ম্যাংগোটিভি / আরএইচ
