জাতীয় সংসদে গঠনমূলক, যুক্তিনির্ভর ও জনস্বার্থভিত্তিক বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতের মতো সরকারঘেঁষা ‘বগলদাবা’ বিরোধী দল কিংবা অকারণ হট্টগোল ও ওয়াকআউটনির্ভর রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না জামায়াত।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংসদ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা দেখা যায়নি। সরকারি দলই কার্যত বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেছে। অন্যদিকে, কিছু বিরোধী দল সংসদে উত্তেজনাকর আচরণ ও দীর্ঘদিন বর্জনের রাজনীতি করেছে। জামায়াত এ দুই ধরনের অবস্থান থেকেই দূরে থাকবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা বগলদাবা বিরোধী দল হবো না, আবার সংসদের ভেতরে এমন আচরণও করব না যাতে জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়। জনগণের স্বার্থের বাইরে সংসদে এক মিনিটও ব্যয় করতে চাই না।’
বিরোধীদলীয় নেতা জানান, ইতোমধ্যে তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, ব্যাংকিং খাতের সংকট, শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি, প্রবাসীদের সমস্যা এবং সীমান্তে ‘পুশইন’ ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংসদে নোটিশ দিয়েছেন।
ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের শেয়ারবাজার প্রায় ধ্বংসের মুখে এবং ব্যাংকিং খাতও সংকটে রয়েছে। এসব বিষয়ে জনগণের পক্ষে সংসদে কথা বলছে জামায়াত।
প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে সরকার এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি বলে অভিযোগ করেন।
সীমান্তে ‘পুশইন’ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এটি সংসদে আলোচনার সুযোগ থাকা উচিত।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজেট অধিবেশন চলছে। তবে ৫৬ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট ব্যয়ের পর অনুমোদনের জন্য সংসদে আনা হয়েছে, যা কার্যপ্রণালী বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি দাবি করেন।
অর্থবছরের শেষদিকে বিপুল অর্থ বরাদ্দ ও দ্রুত ব্যয়ের সংস্কৃতি দুর্নীতি ও অপচয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে উল্লেখ করে তিনি জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ভিত্তিক অর্থবছর চালুর প্রস্তাব দেন।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, তারা অকারণ সংঘাতে যাবেন না, আবার দীর্ঘ সময় সংসদ বর্জনও করবেন না। কোনো যৌক্তিক দাবি উপেক্ষিত হলে ওয়াকআউট করা হতে পারে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদি হবে না।
তিনি বলেন, ‘যদি এটাকে কেউ মিলমিশের সংসদ বলেন, বলুন। আর যদি এটাকেই সংসদীয় পারফরম্যান্স বলেন, সেটাই আমাদের পারফরম্যান্স।’
মতবিনিময় সভায় বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দলটির নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, সাইফুল আলম খান মিলন, শাহজাহান চৌধুরী, গাজী নজরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন ও ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান উপস্থিত ছিলেন।
