আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ বাড়াতে একগুচ্ছ প্রস্তাবনা দিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।
বুধবার (১ এপ্রিল) সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান-এর কাছে পাঠানো চিঠিতে এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।
লভ্যাংশে দ্বৈত কর বাতিলের প্রস্তাব
ডিবিএ জানিয়েছে, বর্তমানে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর উৎসে কর কাটার পর আবার আয়কর রিটার্নে কর দিতে হয়, ফলে কার্যকর করহার অনেক ক্ষেত্রে ৪০.৫ শতাংশে পৌঁছে যায়। এ অবস্থায় উৎসে কাটা করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ সীমা তুলে দেওয়ার আহ্বান
বর্তমানে কর রেয়াতের জন্য মিউচুয়াল ফান্ডে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ সীমা থাকায় বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এই সীমা তুলে দিয়ে যেকোনো পরিমাণ বিনিয়োগে কর সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সমান করহার নির্ধারণের দাবি
তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ ও মিউচুয়াল ফান্ডে ভিন্ন করহার থাকায় বিনিয়োগে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করে সব ক্ষেত্রে অভিন্ন করহার নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে ডিবিএ।
টার্নওভার ট্যাক্সে পরিবর্তনের সুপারিশ
শেয়ার লেনদেনে উৎসে কাটা কর (TDS) বর্তমানে মিনিমাম ট্যাক্স হিসেবে গণ্য হওয়ায় লোকসান হলেও ব্রোকারেজ হাউসকে কর দিতে হচ্ছে। ডিবিএ এই করকে অ্যাডভান্স ট্যাক্স হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে প্রকৃত আয় অনুযায়ী সমন্বয় করা যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য কর ছাড়
নেগেটিভ ইকুইটি অ্যাকাউন্টধারীদের জন্য কর ছাড়, ইন্টারেস্ট ওয়েভার, ক্যাশ ডিভিডেন্ড ও ক্যাপিটাল গেইনে পূর্ণ কর অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান ১০ লাখ টাকার সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
বড় কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে নতুন কাঠামো
পুঁজিবাজারে বড় কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে ‘ডিমড-টু-বি লিস্টেড কোম্পানি’ কাঠামো চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহে প্রণোদনা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
নিষ্ক্রিয় কোম্পানির কর সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব
যেসব তালিকাভুক্ত কোম্পানি টানা তিন বছর বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) করেনি বা লভ্যাংশ দেয়নি, তাদের কর সুবিধা বাতিল করে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির সমান করহার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
ডিবিএ মনে করছে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও গভীরতা বাড়বে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে।
ম্যাংগোটিভি /আরএইচ
