ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান দেখা গেছে।
একদিনেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২০০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বাজার মূলধন বেড়েছে ১২ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা। পাঁচ মাস পর ডিএসইতে এক হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।দিন শেষে ডিএসইতে ৩৬৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমেছে ২৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টি। এর মধ্যে ৭৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট সার্কিট ব্রেকারে লেনদেন হয়েছে। তালিকাভুক্ত সব ৩৪টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দামও বেড়েছে।
ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৭৫ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৪৮৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বেশি। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বরের পর এটিই সর্বোচ্চ লেনদেন।
লেনদেনে শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংক (৮০ কোটি ৭২ লাখ টাকা), দ্বিতীয় স্থানে ঢাকা ব্যাংক (৪২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা) এবং তৃতীয় স্থানে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস (৪১ কোটি ৮ লাখ টাকা)। এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংক, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, রবি, সায়হাম কটন, যমুনা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও ওরিয়ন ইনফিউশনও লেনদেনে শীর্ষ তালিকায় ছিল।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এও উল্লম্ফন হয়েছে। বাজারটির সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৮৪ পয়েন্ট বেড়েছে। ২৪৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২০টির দাম বেড়েছে, কমেছে ১৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১০টির। লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া এবং নতুন সরকারের সম্ভাব্য নীতিগত দিকনির্দেশনার প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা কেনার দিকে ঝুঁকেছেন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, তারল্য সংকট ও আস্থাহীনতার পর অনেক বিনিয়োগকারী নতুন করে বাজারে সক্রিয় হয়েছেন। অনেকে এ পরিস্থিতিকে ‘রিলিফ র্যালি’ হিসেবে দেখছেন।
ডিএসই পরিচালক মো. শাকিল রিজভী বলেন, বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে। তবে বাজারের ইতিবাচক ধারা স্থায়ী করতে হলে ভালো কোম্পানির শেয়ার বাজারে আনতে হবে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)-এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, নতুন সরকার শেয়ারবাজার নিয়ে যে অঙ্গীকার করেছে, তা বাস্তবায়ন হলে বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে। বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও ভালো কোম্পানির আইপিও আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংস্কার, সুদহার নীতি, ডলার বাজারে স্থিতি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির পদক্ষেপ বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে।
ম্যাংগোটিভি /আরএইচ
