পাবনার দুটি সংসদীয় আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোনো বাধা নেই। সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জারি করা গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, সাঁথিয়া উপজেলাকে পাবনা-১ এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলাকে মিলিয়ে পাবনা-২ আসন হিসেবে গণ্য করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।
এর আগে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখার ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। আবেদনে যথাসময়ে নির্বাচন ও নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
রায়ের পর ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন স্থগিতের অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগ আদেশ দিয়েছেন। ইসির গেজেট স্থগিত হওয়ায় নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই।”
এর আগে, সংসদীয় আসনের সীমানা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের ৫ জানুয়ারির আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, গত ৬ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এ সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ডিসেম্বর সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে জারি করা ইসির গেজেটের কার্যক্রম ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ স্থগিত করেন। এর ফলে ইসির আগের-২৪ সেপ্টেম্বরের গেজেট কার্যকর হয়ে যায়, যেখানে সাঁথিয়া উপজেলা এককভাবে পাবনা-১ এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসন নির্ধারিত ছিল। এর আগে ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন বাদ দেওয়ার গেজেটের অংশ আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে আগের সীমানা পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
