ভিসা নীতিতে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন শত্রুদের সমর্থন করবে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে, তাদের জন্য ভিসা সীমিত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন এই নীতির আওতায় ইতোমধ্যে ২৬ জন ব্যক্তির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন প্রভাব পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে পরিচিত।

এটি উনবিংশ শতাব্দীর মনরো ডকট্রিন–এর আধুনিক রূপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই নিষেধাজ্ঞা মূলত তাদের ওপর প্রযোজ্য হবে যারা জেনে-শুনে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের নির্দেশদাতা বা সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করবে, কৌশলগত সম্পদ সংগ্রহে সহযোগিতা করবে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যাহত করবে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

যদিও কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, বিশ্লেষকদের ধারণা-লাতিন আমেরিকায় চীনের প্রভাব মোকাবিলা এবং মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে ইরান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের সঙ্গে জড়িত পরিবারের অন্তত সাত সদস্যের ভিসা বাতিল করেছে। এছাড়া ফিলিস্তিনপন্থি কিছু আন্দোলনকারী ও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সমালোচকদের দাবি-এই নীতি শুধু অপরাধীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের বিরুদ্ধেও প্রয়োগ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক নীতিতে প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ভিসা নীতিকে ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version