এক-এগারোর সময় এবং পরবর্তী সময়ে নিজের পরিবার যে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, চাইলে তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারেন, তবে তাতে কারও কোনো উপকার হবে না।
রোববার (২১ জুন) রাতে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি লা হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেনের পরে এবং তারপরেও বিভিন্ন সময়ে আমি ও আমার পরিবারের সঙ্গে অনেক ঘটনা ঘটেছে। এখন বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে, আমি প্রধানমন্ত্রী। চাইলে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারি। কিন্তু আমি যদি নেই, তাতে বেনিফিট কী হবে? কারও কোনো বেনিফিট হবে না। এই জায়গা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। দেশ আমাদের সবার। সবাইকে ধৈর্য ধরে ধীরে ধীরে এগোতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের পরে এবং তারপরেও বিভিন্ন সময়ে আমার সঙ্গে, আমার মায়ের সঙ্গে, আমার ভাইয়ের সঙ্গে নানা ঘটনা ঘটেছে। আম্মা একবার খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তখন একটি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চাওয়া হলেও তারা সেটি দেয়নি।’
গত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী দেশ থেকে নিতে নিতে দেশটাকে একদম শেষ করে দিয়েছে, ধ্বংস করে দিয়েছে। যা হওয়ার হয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করেছি, মানুষ বুকের রক্ত দিয়েছে, দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। এখন আসুন, আমরা সবাই মিলে দেশের জন্য কী করতে পারি, সেদিকে মনোযোগ দিই।’
প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন ব্যক্তিগত দাবি-দাওয়া নিয়ে পড়ে থাকার সময় নয়; বরং ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে টেনে তুলতে কার কী দায়িত্ব, তা ভাবার সময় এসেছে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কুয়ালালামপুরের রাস্তাগুলো আমার কাছে অনেক পরিষ্কার মনে হয়েছে, আর এই পরিষ্কার করার কাজ কিন্তু আমার দেশের ভাইয়েরাই করছে। আমার কথা হচ্ছে, আমার দেশের ভাইরা যদি এখানে পারে, তাহলে আমরা দেশে কেন পারব না?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সামনে অত্যন্ত সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে। তবে এর জন্য আমাদের পরিশ্রম করতে হবে, কষ্ট করতে হবে এবং সবচেয়ে বড় কথা ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’
প্রবাসীদের আইনি সুবিধা নিয়ে আলোচনা হবে
মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের বিভিন্ন জটিলতার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে দেশের আইন মেনেই চলতে হবে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের জন্য আইনের ভেতরে থেকে যতটুকু সুবিধা আদায় করা সম্ভব, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি মানি বা না মানি, এখানে তো আপনাকে এ দেশের আইনে চলতে হবে। এখানে আবদার করলে চলবে না। আগামীকাল মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আমরা কথা বলব। বিষয়গুলো নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করব, বোঝানোর চেষ্টা করব। তবে তারা তো তাদের দেশের আইনের বাইরে যাবে না। সেই আইনের ভেতরে থেকে যতটুকু আমরা আমাদের প্রবাসীদের জন্য সুবিধা আদায় করতে পারি, আমরা সেটা অবশ্যই করব।’
সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশ গঠনে বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকারের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের রূপরেখা।
মতবিনিময় সভায় ধন্যবাদ বক্তব্য দেন বিএনপি মালয়েশিয়া শাখার সভাপতি প্রকৌশলী বাদলুর রহমান।
উল্লেখ্য, দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। পরে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও নেতৃত্ব দেবেন।
