দেশে কয়েক বছর ধরে চলা মন্দার ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হয়েছে। কমেছে জিডিপির প্রবৃদ্ধি। ব্যাংক থেকে ঋণপ্রবাহ যেমন কমেছে, তেমনই আমানত বাড়ার প্রবৃদ্ধির হারও কমেছে। তবে সার্বিকভাবে আমানত প্রবাহ বেড়েছে। অর্থনীতির এমন পরিস্থিতিতেও ব্যাংক খাতে গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের মার্চে কোটিপতি আমানতকারীর হিসাব সংখ্যাও বেড়েছে ২ হাজার ৪৪১টি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪ জন। গত মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫ জনে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এই সংখ্যা ছিল এক লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে নতুন করে দুই হাজার ৪৪১টি কোটি টাকার হিসাব যুক্ত হয়েছে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটি টাকার আমানতকারী হিসাব ছিল মাত্র পাঁচটি। সেই হিসাবে গত ৫৪ বছরে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৪৮০টি।
মোট ব্যাংক হিসাব ও আমানত বেড়েছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে মোট হিসাব ছিল ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি। চলতি বছরের মার্চ শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টি। অর্থাৎ তিন মাসে নতুন হিসাব যুক্ত হয়েছে ৪৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৫০টি।
একই সময়ে ব্যাংকে মোট আমানতের পরিমাণও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে মোট আমানত ছিল ২১ লাখ ৫৩৩ কোটি টাকা, যা ২০২৬ সালের মার্চ শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা।
বেড়েছে কোটিপতি হিসাবের আমানত
কোটি টাকার হিসাবের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি এসব হিসেবে জমা অর্থের পরিমাণও বেড়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এসব হিসাবে মোট আমানত ছিল আট লাখ ৩৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এ বছরের মার্চ শেষে তা বেড়ে পরবর্তীতে এ প্রবৃদ্ধি আরও দ্রুত হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে কোটি টাকার হিসাব দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৮৯০টি, ২০২১ সালে এক লাখ নয় হাজার ৭৬টি, ২০২২ সালে এক লাখ নয় হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালে এক লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে এক লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি ও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এক লাখ ২৮ হাজার ৭০টি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোটি টাকার হিসাব মানেই প্রত্যেকে কোটিপতি ব্যক্তি নন। কারণ এক কোটি টাকার বেশি অর্থের হিসাবের মধ্যে ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের হিসাব রয়েছে। একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক ব্যাংক হিসাবও থাকতে পারে। ফলে হিসাবের সংখ্যা এবং প্রকৃত কোটিপতি ব্যক্তির সংখ্যা এক নয়। তিন মাসে এ ধরনের হিসাবে জমা অর্থ বেড়েছে ২২ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা।
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালে দেশে কোটি টাকার হিসাব ছিল ৪৭টি। তা বেড়ে হয় ১৯৮০ সালে ৯৮টি, ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে দুই হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে পাঁচ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে আট হাজার ৮৮৭টি ও ২০০৮ সালে ১৯ হাজার ১৬৩টি।
