২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনের তুলনায় ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা এখনো উদ্বেগের কারণ হিসেবে রয়ে গেছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল।
দশম সংসদ নির্বাচন (২০১৪): ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি রক্তপাত ও প্রাণহানি ঘটেছিল। ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৫৩০টি সহিংস ঘটনায় ১১৫ জন নিহত হন। সে সময় আহতের সংখ্যা ছিল ৩১৫ জন। তবে ওই সময়ে যানবাহন বা স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য এই পরিসংখ্যানে পাওয়া যায়নি।
একাদশ সংসদ নির্বাচন (২০১৮): ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সহিংসতার ধরনে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সে সময় প্রাণহানি কমে ২২ জনে দাঁড়ালেও আহতের সংখ্যা ছিল গত তিন নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ—৭৮০ জন। ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ২ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৪১৪টি সহিংস ঘটনা ঘটে। এই সময়ে ২৩৪টি ভাঙচুর, ১৫৫টি অগ্নিসংযোগ এবং ১৪৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি ছোঁড়ার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন (২০২৪): ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে মোট সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৫৩৪টি, যা গত তিনটি নির্বাচনের মধ্যে সংখ্যার বিচারে সর্বোচ্চ। তবে আশার কথা হলো, এই নির্বাচনে প্রাণহানি এক অংকে নেমে এসেছে। ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৬ জন এবং আহত হয়েছেন ৪৬০ জন। এই সময়ে ১০২টি ভাঙচুর, ১১৮টি অগ্নিসংযোগ এবং ৩০টি ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে।
পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, যদিও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে, তবু সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা এখনো দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় উদ্বেগের কারণ।
ম্যাংগোটিভি /আরএইচ
