কুমিল্লা নগরীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেম (১২) গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ৯টার দিকে নগরীর কাটাবিল এলাকায় গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ারকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, আমরা সবাই তাদের (মাদক কারবারিদের) কাছে স্যারেন্ডার করে চলে যাই। আর না হয় কিছু একটা করেন বিজয়পুর যা হয়েছে। না হয় চলেন মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে ক্ষমতা ছাইড়া দেই। মাদক কারবারি থাকবে, একজন স্কুলছাত্র স্কুলে যেতে পারবে না; তারপর আপনি ওসি থাকবেন, আমি এমপি থাকব এটা ঠিক না। কি জবাব দিবেন এই পরিবারের কাছে?
মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মাদক কারবারিদেরকে আইনের আওতায় আনতেই হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে কথা বলা হবে। তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে আমি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং কুমিল্লার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি রাতের মধ্যেই ফলাফল দেখতে চাই।
এ সময় তিনি আহত ইথান আহমেদের মা সোনিয়া আক্তারের সাথে কথা বলেন। তার সাথে কে কে আছে তার খোঁজখবর নেন।
পরে আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে এমপি জানান, ঢাকায় ইথানের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
এ সময় ইথানের মা সোনিয়া আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, অপু ও সাব্বির এই দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েকদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। বৃহস্পতিবার আমার ছেলে স্কুলে গিয়েছিল। টিফিনের সময় বাসায় ফেরার পথে তার পিঠে গুলি লাগে। সে আমার একমাত্র সন্তান। ওর কিছু হলে আমি কী নিয়ে বাঁচব?
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকায় মাদক কারবারিদের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে সে। গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীর ইথান আহমেদ প্রেম (১২) নগরীর কাটাবিল এলাকার বাসিন্দা মো. ইউনুস মিয়ার ছেলে।
