বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমি মাঝে মাঝে ভাবি, পুঁজিবাজার ছাড়া কিভাবে অর্থনীতি চলছে। একটি পরিপূর্ণ অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য পুঁজিবাজার অপরিহার্য।’
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী ২০২৬ দিগন্ত: অর্থনীতি, রাজনীতি এবং পুঁজিবাজার’ শীর্ষক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, ভারতের পুঁজিবাজারের বাজার মূলধন দেশটির মোট জিডিপির প্রায় ৬০ শতাংশ, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৪০ শতাংশ। ‘আমরা যদি একটি কার্যকর ও ফাংশনাল পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে পারি, তাহলে শুধু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, বড় বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগের জন্য পুঁজিবাজারে আসবে,’ বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, ভালো মানের বেসরকারি কোম্পানিগুলোকেও বাজারে আনার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ‘যদি বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস অর্জনে পুঁজিবাজার ব্যর্থ হয়, তাহলে ভালো কোম্পানিগুলো বাজারে আসতে আগ্রহী হবে না,’ যোগ করেন তিনি।
প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ওপর জোর দিয়ে আমির খসরু বলেন, একটি দেশের ধ্বংসের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ভুলই যথেষ্ট। তাই শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি। পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) পরিপূর্ণভাবে গড়ে তুলতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের পে-স্কেল নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘ওয়ালস্ট্রিটসহ বৈশ্বিক বাজার সম্পর্কে জ্ঞান থাকা একজন কর্মকর্তাকে ন্যূনতম বেতন দিলে কাঙ্ক্ষিত আউটপুট পাওয়া সম্ভব নয়।’
সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নেতা অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, তাদের দল সরকার গঠন করলে শরিয়াভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও বিদ্যমান অর্থনৈতিক কাঠামো বহাল থাকবে। তিনি বলেন, পুঁজিবাজার যেহেতু অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই এর উন্নয়নে কাজ অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, সিএফএ বলেন, পুঁজিবাজার সংস্কারের জন্য শুধু বাজার নয়, পুরো বাজারকেন্দ্রিক ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন। ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিংকে আরও আধুনিক ও ইন্টেলিজেন্ট করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এবিবির চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশরুর আরেফিন বলেন, ব্যাংকিং খাত সংস্কারের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা প্রধান উপদেষ্টার কাছে এবং ভবিষ্যতে নতুন সংসদেও উপস্থাপন করা হবে। তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ‘একটি নির্বাচন সামনে আসছে, যা অবশ্যই সচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে।’
