Wednesday, October 21

ইসরায়েল সরকার ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন করেছে। এই চুক্তির ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

মধ্যস্থতাকারীরা চুক্তি নিয়ে সমঝোতার ঘোষণা দেওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি অনুমোদন করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েল ধাপে ধাপে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক্স (পূর্বের টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়, ‘সরকার কিছুক্ষণ আগে জীবিত এবং মৃত সব জিম্মিকে মুক্ত করার কাঠামো অনুমোদন করেছে।’

চুক্তির ঘোষণার পর ইসরায়েল ও গাজা উভয় অঞ্চলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের প্রকাশ দেখা গেছে। দুই বছর ধরে চলমান রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতের অবসানে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

হামাসের নির্বাসিত গাজা শাখার প্রধান খলিল আল-হাইয়া জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে তিনি যুদ্ধের অবসানের নিশ্চয়তা পেয়েছেন।

ইসরায়েল সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, চুক্তির অনুমোদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে।

গাজায় বর্তমানে ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মি জীবিত এবং ২৬ জন মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া দুজনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি। হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জীবিতদের তুলনায় নিহতদের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে বেশি সময় লাগতে পারে।

গত দুই বছরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজার লাখো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন এবং তারা বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে অস্থায়ী তাঁবুতে দিন কাটাচ্ছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গাজায় খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো প্রবেশ করতে পারবে।

Share.
Exit mobile version