Wednesday, October 21

দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছিল বার্সেলোনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) আক্রমণ সামলাতে পারেনি কাতালানরা। শেষ দিকে আরও দুই গোল করে ৪-২ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা। এতে চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর প্রথম হারের স্বাদ পেল হান্সি ফ্লিকের দল।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে বার্সেলোনাকে হারিয়ে দারুণ জয় উদ্‌যাপন করেছে লুইস এনরিকের শিষ্যরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল পিএসজি। খিচা কাভারাস্কেইয়ার শক্তিশালী শট ঠেকাতে দুর্দান্তভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন বার্সেলোনার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া। তাঁর নাগাল এড়িয়ে যাওয়া বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

পাল্টা আক্রমণে বার্সেলোনাও সুযোগ তৈরি করে। তবে প্রথমার্ধে দুই দলই চোটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হারায়। পিএসজির উসমান দেম্বেলে ও বার্সেলোনার দানি ওলমো মাঠ ছাড়েন। তাঁদের বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস ও ফেরমিন লোপেজও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।

ম্যাচের ৩৮ মিনিটে এগিয়ে যায় পিএসজি। লামিন ইয়ামালের পাস মাঝপথে আটকে বলের দখল নেয় প্যারিসের দল। এরপর বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন দেজিরে দুয়ে।

বিরতির পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি পিএসজি। ৫০ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও ব্যর্থ হন আশরাফ হাকিমি। তাঁর শট ঠেকিয়ে বার্সেলোনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন গার্সিয়া।

এরপর সমতায় ফেরে কাতালানরা। ফেরমিন লোপেজের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ার পর পিএসজির বক্সে ঢুকে গোল করেন তরুণ জাভি এসপার্ত। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তাঁর প্রথম গোল।

সমতা ফেরানোর পর চোটের কারণে মার্কিনিওস ও কাভারাস্কেইয়াকে হারায় পিএসজি। অন্যদিকে ম্যাচের গতি বদলাতে একসঙ্গে তিন খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন বার্সেলোনা কোচ ফ্লিক। তবে গাভির একটি শট আটকে যায় প্রতিপক্ষের রক্ষণে।

৭০ মিনিটে ফেরান তোরেসের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে আবারও গোলবঞ্চিত হয় বার্সেলোনা। এর কিছুক্ষণ পরই এগিয়ে যায় পিএসজি। কর্নার থেকে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন লুকাস এরনান্দেস। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা।

তবে হার মানেনি বার্সেলোনা। ৭৯ মিনিটে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে লামিন ইয়ামাল বুটের বাইরের অংশ দিয়ে দারুণভাবে বল জালে পাঠান। তাতে আবারও ২-২ সমতায় ফেরে কাতালানরা।

কিন্তু এবারও বেশিক্ষণ সমতা ধরে রাখতে পারেনি বার্সেলোনা। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বক্সের বাইরে থেকে আসা বল বুকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করেন ভিতিনিয়া। ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় পিএসজি।

শেষ দিকে বার্সেলোনার রক্ষণে আরও চাপ বাড়ায় প্যারিসের দল। আশরাফ হাকিমির ক্রস থেকে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে সহজ টোকায় গোল করেন ফাবিয়ান রুইস। তাতেই ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় পিএসজির।

দুইবার সমতায় ফিরেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি বার্সেলোনা। পিএসজির মাঠে এই পরাজয়ে চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের ধারাও থামল ফ্লিকের দলের।

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version