Saturday, November 7

ইরানের পরমাণু প্রকল্প, সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সরঞ্জাম ও ব্যক্তিদের-বিশেষ করে পরমাণু বিজ্ঞানীদের-সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে তথ্য দিলে তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি তথ্যদাতাকে নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হবে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সেন্টকমের বার্তায় বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সরঞ্জাম ও এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের, যেমন বিজ্ঞানীদের বিষয়ে তথ্য প্রদানকারীকে ২ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার এবং নিরাপদ স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় এ পুরস্কার ও পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে।

একই ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিরাপত্তাবিষয়ক বাধ্যবাধকতা পালনে ইরানের ব্যর্থতার কারণে সেন্ট্রিফিউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের উৎপাদন ও মজুত সম্পর্কে সংস্থাটির কাছে থাকা তথ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।

১৯৮৪ সালে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক পুরস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ চালু করে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কর্মসূচিটির লক্ষ্য হলো—মার্কিন নাগরিকদের জীবন ও স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক তথ্যের বিনিময়ে অর্থ পুরস্কার দেওয়া।

এদিকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির তথ্যের বিনিময়ে পুরস্কার ও নিরাপদে স্থানান্তরের ঘোষণা দেওয়ার দিনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসানে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী ওয়াশিংটন।

শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যকরভাবে ধ্বংস করেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা না চালালে ইসরায়েল টিকে থাকত না বলেও দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, আট মাস ধরে চলা যুদ্ধে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক শক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার দাবি, ইরান এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে আগ্রহী এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে মরিয়া।

এর আগে ৩ নভেম্বর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছিলেন, তার সরকার এখনও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে ১ নভেম্বর ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে আরও এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে মধ্য ইরানে অবস্থিত তথাকথিত ‘পিকাক্স পর্বত’ও রয়েছে। এটিকে সম্ভাব্য একটি পারমাণবিক স্থাপনা বলে ধারণা করা হলেও তেহরান তা অস্বীকার করেছে।

সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version