Sunday, November 1

ইসরায়েলের নির্বাচনে কোনো পক্ষ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি প্রস্তাব সামনে এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহু প্রথম দুই বছর প্রধানমন্ত্রী থাকার পর ক্ষমতা ছাড়বেন।

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১৪ এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। চ্যানেলটির দাবি, দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এই সমঝোতার প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার অনেক আগে থেকেই এ ধরনের সমঝোতার উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। গত দুই বছর ধরে তিনি এ চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটতে পারে। তবে পার্লামেন্টে দলগুলোর আসনসংখ্যার বর্তমান হিসাব অপরিবর্তিত থাকলেই কেবল এ সমঝোতা বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে নেতানিয়াহু প্রথম দুই বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে চাইবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে চ্যানেল ১৪-এর এই প্রতিবেদন সরাসরি নাকচ করেছে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। এক বিবৃতিতে প্রতিবেদনটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করে কার্যালয়টি জানায়, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয় আরও জানায়, সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে আগাম কোনো আলোচনা করছে না তারা। আগামী বুধবারের আগে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছাবে না।

আনুষ্ঠানিক ফলাফল পাওয়ার পর সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। এসব আলোচনার পরই সরকার গঠনের দায়িত্ব কোন দল বা নেতাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।

এদিকে, গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন।

দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে প্রাথমিক ফলাফলে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এখনো বিশেষ ভোটের গণনা বাকি রয়েছে। সেনাসদস্য, কারাবন্দি, কূটনীতিক এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভোটারদের দেওয়া ভোট এই গণনার অন্তর্ভুক্ত। এসব ভোট গণনা শেষে আসনসংখ্যার হিসাবে পরিবর্তন আসতে পারে।

দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। ১৯৯৯ সালের পর ইসরায়েলে এটিই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version