Sunday, September 13

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো। একই সঙ্গে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে—এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়ায় অব্যাহত উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং আমাদের নিজ নিজ জাতীয় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে সর্বোচ্চ আত্মসংযম প্রদর্শনের পাশাপাশি পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে—এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এর আগে গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসেছিলেন। তখন সদস্য দেশ ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতিতে পৌঁছাতে পারেনি জোটটি।

তবে আয়োজক দেশ ভারতের জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর শনিবার বিশ্বনেতাদের বৈঠকে যৌথ বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়।

বেসামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা

যৌথ বিবৃতিতে বেসামরিক অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনায় হামলারও নিন্দা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবগুলো লঙ্ঘন করে বেসামরিক অবকাঠামো এবং আইএইএর পূর্ণ সুরক্ষায় থাকা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ইচ্ছাকৃত আক্রমণের বিষয়ে আমরা গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মানুষ ও পরিবেশকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সশস্ত্র সংঘাতসহ যেকোনো পরিস্থিতিতে পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা সবসময় বজায় রাখতে হবে।

বৈশ্বিক শান্তি ও জ্বালানি প্রবাহের ওপর গুরুত্ব

পশ্চিমা শক্তিগুলোর প্রভাব থাকা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০০৯ সালে ব্রিকস গঠিত হয়।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বক্তব্য দেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থ রক্ষা করে না।

নয়াদিল্লিতে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা বর্তমান বৈশ্বিক মেরুকরণ ও অবিশ্বাসের বিষয়টি লক্ষ্য করছি এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার করতে বৈশ্বিক পদক্ষেপকে উৎসাহিত করছি।’

বৈশ্বিক বাণিজ্য, সরবরাহ শৃঙ্খলা ও জ্বালানির নির্বিঘ্ন প্রবাহ বজায় রাখতেও একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ব্রিকস।

শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

শনিবার দিনের শেষ দিকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানও সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version