রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেছেন, নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি দেশের মানুষের পাশাপাশি বিদেশিদেরও আস্থা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিও আগামী কয়েক মাসের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য অবারিত সুযোগ তৈরি হবে। সরকার প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা দিয়ে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর ১১তম আসরের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ‘সুযোগ সামনে অবারিত। যেসব সমস্যা আমরা আপাতত অনুভব করছি, সেসব শঙ্কার মেঘ ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে। নতুন গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, সেই সরকারের প্রতি আস্থা শুধু দেশের মানুষের নয়, বিদেশিদেরও রয়েছে। আর তার প্রতিফলন আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরও পড়তে শুরু করেছে।’
তিনি বলেন, এখন বিনিয়োগকারীদের, বিশেষ করে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার সময়। সম্পূর্ণ নতুন আত্মবিশ্বাসে সরকারের নীতিসহায়তা এবং সরকারি দপ্তরগুলোর পূর্ণ সহযোগিতা নিয়ে উদ্যোক্তাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিশ্বের যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আছে, আপনারা যারা রাজনীতি ও বিশ্ব পরিস্থিতির কিছুটা খোঁজখবর রাখেন, তারাও এতক্ষণে বুঝতে পেরেছেন যে এই যুদ্ধ সর্বোচ্চ আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত চলবে। যিনি যুদ্ধ শুরু করেছেন, তিনিও ঘোষণা করেছেন যে এই যুদ্ধ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে, নভেম্বরে যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘কাজেই সর্বোচ্চ এই অশান্ত পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে আগামী নভেম্বরেই শেষ হয়ে যেতে যাচ্ছে। অর্থাৎ আগামী পুরো বছরটা রয়ে গেছে আমাদের কেবল প্রবৃদ্ধি অর্জনের।’
তিনি আরও বলেন, নিজেদের শক্তিমত্তা, মেধা, উদ্ভাবন ও সাফল্যকে পুঁজি করে বিশ্বের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার এখনই সময়।
উদ্যোক্তাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ‘আসুন আমরা একসঙ্গে কাজ করি। শুধু ২৬০ মিলিয়ন বা ১ বিলিয়ন নয়, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে এই সেক্টরকে যেখানে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন হবে, আমরা সে পর্যন্ত আপনাদের সঙ্গে হাঁটতে রাজি আছি।’
তিনি বলেন, সেই সুদিনের প্রত্যাশায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাদের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।
নীতিগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে হবে: ভোক্তা অধিদপ্তরের ডিজি
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সরকারের বিদ্যমান নীতিগত সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করার পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও সহজ ও কার্যকর করতে হবে। এ বিষয়ে আলোচনা করে স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে অনেক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তাই এখন সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।
মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষক ও শিল্প খাতের মধ্যে যে সংযোগের দুর্বলতা রয়েছে, তা দূর করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ও বাজারের সার্বিক দামের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে। পাশাপাশি এ খাতে প্রযুক্তির আধুনিকায়ন নিশ্চিত করাও সময়ের দাবি।
দেশীয় পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ে আরও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম বহুগুণ বাড়াতে হবে। একটি শক্তিশালী মূল্য সংযোজন শৃঙ্খল গড়ে তোলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাজার প্রতিস্থাপনের বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। ভোক্তা অধিদপ্তর শুধু অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেই দায়িত্ব শেষ করতে চায় না। নকল ও নিম্নমানের পণ্যের ভিড়ে যেসব আসল ও মানসম্পন্ন কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদেরও পূর্ণ সহায়তা দিতে চায় অধিদপ্তর।
সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি উজমা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ মুহাম্মদ শোয়াইব হাছান, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (এক্সপোর্ট) মিজানুর রহমান এবং স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ সাইফুল ইসলাম।
ম্যাংগোটিভি / আরএইচ


