Wednesday, October 7

দেশের পুঁজিবাজারে চলমান তারল্য সংকট মোকাবিলা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদার করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিল সুবিধার সীমা প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করার দাবি জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। একই সঙ্গে এ সুবিধার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

এ দাবিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এফসিএমএ-এর কাছে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

ডিবিএ বলেছে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও এর উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা বিশেষ তহবিল সুবিধা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাজারের তারল্য ও স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

বর্তমানে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংক সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারে। তবে এ সুবিধার বর্তমান মেয়াদ আগামী ৩০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

ডিবিএ মনে করে, দেশের পুঁজিবাজারে বিদ্যমান তারল্য সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিশেষ তহবিল সুবিধা প্রত্যাহার না করে বরং আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

এ লক্ষ্যে সংগঠনটি দুটি প্রস্তাব দিয়েছে। এগুলো হলো—প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য বিশেষ তহবিলের সীমা ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা এবং সুবিধাটির মেয়াদ ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত আরও পাঁচ বছর বাড়ানো।

ডিবিএর মতে, বিশেষ তহবিলের সীমা ও মেয়াদ বাড়ানো হলে পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ, বাজারের তারল্য ও গভীরতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডিবিএ আশা করছে, পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ তহবিলের সীমা ৩০০ কোটি টাকা এবং এর মেয়াদ ৩০ নভেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ডিবিএ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version