দেশে মেধাবী উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনী ধারণার অভাব নেই উল্লেখ করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, অর্থের অভাবে কোনো সম্ভাবনাময় উদ্যোগ থেমে থাকবে না। এ জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষতা, সুশাসন ও পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ‘ফান্ড অব ফান্ডস’ পরিচালনা করা হবে। স্টার্টআপ বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৩৬টি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপে প্রায় ১১১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তবে শুধু সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি খাতকেও স্টার্টআপে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে উদ্যোগ সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না, বাস্তবে কাজ করে এর সুফল নিশ্চিত করতে হবে। ‘ফান্ড অব ফান্ডস’-এর মাধ্যমে দেশে আরও বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক মূলধন আনার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হবে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস আমাদের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে একটি গেম-চেঞ্জিং উদ্যোগ। এটি দেশের স্টার্টআপ খাতকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় পুঁজি, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, উদ্ভাবননির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
শুধু অর্থায়ন নয়, প্রয়োজন দক্ষতা ও বাজারসংযোগ
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও স্টার্টআপ খাত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বহুমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, শুধু অর্থায়ন নয়, স্টার্টআপগুলোর জন্য পরামর্শ, দক্ষতা উন্নয়ন, বাজারসংযোগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও প্রয়োজন। প্রস্তাবিত ‘ফান্ড অব ফান্ডস’-এর মাধ্যমে বিনিয়োগের পাশাপাশি এসব সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং আইনসম্মত মুনাফা ও মূলধন সহজে প্রত্যাবাসনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
শক্তিশালী বিনিয়োগ অবকাঠামো তৈরির লক্ষ্য
সভাপতির বক্তব্যে আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁঞা বলেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়, যেখানে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবন স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু স্টার্টআপে বিনিয়োগ বাড়াবে না, দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ অবকাঠামোও গড়ে তুলবে।
অনুষ্ঠানে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই ফান্ডটির কাঠামো, বিনিয়োগ কৌশল, ফান্ড ম্যানেজার নির্বাচন প্রক্রিয়া, যৌথ বিনিয়োগ ব্যবস্থা ও সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরেন।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় শক্তিশালী সুশাসন, পেশাদার ফান্ড ব্যবস্থাপনা ও বিশ্বাসযোগ্য বিনিয়োগ কৌশলসম্পন্ন নির্বাচিত দেশি ও আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডে বিনিয়োগ করা হবে।
অনুষ্ঠানে যোগ্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড ব্যবস্থাপকদের অংশগ্রহণের জন্য ‘রিকোয়েস্ট ফর এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট’ আহ্বানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়।
প্রাথমিক তহবিল ৪০০ কোটি টাকা
স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্যোগে শুরু হওয়া সরকারের ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’-এর প্রাথমিক আকার ৪০০ কোটি টাকা। এই তহবিলের মাধ্যমে স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন শক্তিশালী করা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল শিল্পের বিকাশ এবং টেকসই স্টার্টআপ অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
গত এক দশকে বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলো প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে। তবে এর মধ্যে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল মাত্র প্রায় ৭ শতাংশ।
‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের স্টার্টআপকে সহায়তা, স্থানীয় ফান্ড ব্যবস্থাপকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন, জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে বলে আয়োজকেরা আশা করছেন।
অনুষ্ঠানে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার প্রতিনিধি মরিকাওয়া ইউকো, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, বিনিয়োগকারী ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।
ম্যাংগোটিভি / আরএইচ
