ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় এবং নাসীরুদ্দীন উত্তর থেকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ভোটার হয়েছেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তারা ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেন। আসিফ মাহমুদ উত্তর সিটির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের আফতাবনগর এলাকায় এবং নাসীরুদ্দীন দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন।
দলীয় সূত্র বলছে, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপির প্রার্থী বাছাইয়ের হিসাবেও পরিবর্তন এসেছে। ছয় মাস আগে ঢাকা উত্তরে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং দক্ষিণে আসিফ মাহমুদকে মেয়র প্রার্থী করার কথা ভাবা হয়েছিল। এখন উত্তরে আসিফ মাহমুদ এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার বিষয়টি বিবেচনা করছে দলটি।
ভোটার এলাকা পরিবর্তনের কারণ জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ বলেন, দলের কয়েকটি জরিপে উত্তরে তাঁর অবস্থান ভালো এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অবস্থান ভালো এসেছে। সেই বিবেচনায় ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কে কোন সিটিতে প্রার্থী হবেন, সে সিদ্ধান্ত দল নেবে।
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, এনসিপি স্থানীয় নির্বাচনে সর্বাত্মক ও এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের পরিচিত নেতাদের সম্ভাব্য নির্বাচনী এলাকায় ভোটার করা হচ্ছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও এখনই প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তবে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁকে ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী করার প্রত্যাশা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও দক্ষিণে ভোটার হয়েছেন বলে জানান নাসীরুদ্দীন।
সংসদ নির্বাচনেও ভোটার এলাকা বদলেছিলেন দুজন
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের কাছে তিনি পরাজিত হলেও ব্যবধান ছিল তুলনামূলক কম। তবে সে সময় নাসীরুদ্দীনের ভোটার এলাকা ছিল ঢাকা-১৮ আসনে। ফলে যে আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন, সেখানে নিজেই ভোট দিতে পারেননি।
অন্যদিকে সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লা-৩ থেকে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ। শেষ পর্যন্ত ওই নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হননি। পরে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। এবার দক্ষিণের ভোটার এলাকা ছেড়ে উত্তরের আফতাবনগরে ভোটার হলেন তিনি।
স্থানীয় নির্বাচনে ভোটার হওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো আসনের ভোটার না হয়েও ওই আসন থেকে প্রার্থী হওয়া যায়। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে আসিফ ও নাসীরুদ্দীনের এই ভোটার এলাকা পরিবর্তন তাদের সম্ভাব্য প্রার্থিতার আলোচনা আরও জোরালো করেছে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো জোট না করার কথা জানিয়েছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সমঝোতার সুযোগ রাখার কথা জানিয়েছে দলটি। ঢাকা উত্তরে মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে জামায়াত।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থী ও জোটের সমীকরণ চূড়ান্ত হতে আরও সময় লাগবে।


