Thursday, November 5

মোংলা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ ও শিল্পাঞ্চল রুট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মোংলায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য দ্রুত গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ৯ নম্বর জেটিতে ‘মোংলা বন্দরের সুবিধাদির সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিশীলতা সৃষ্টি করবে। মোংলা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ ও শিল্পাঞ্চল রুট হবে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা। প্রধানমন্ত্রী আসন গ্রহণের পর মোংলা বন্দর জামে মসজিদের ইমাম বনি আমিন শেখ পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন।

স্বাগত বক্তব্যে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ১০ ও ১১ নম্বর জেটি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি জানান, প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বাস্তবায়নকাল চার বছর। প্রকল্পের আওতায় দুটি আধুনিক জেটি, কন্টেইনার লোডিং-আনলোডিং ইয়ার্ড, বিপজ্জনক কার্গো হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড এবং ৪৯টি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনসহ বিভিন্ন কাজ করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি নিরাপদে কন্টেইনার সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত স্থান তৈরি হবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে চীনের বাংলাদেশ দূতাবাসের অর্থনীতি ও বাণিজ্যবিষয়ক কাউন্সেলর এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ডেই হেগেন বক্তব্য দেন। এ ছাড়া নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এবং বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

প্রকল্পের বিষয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনাও করা হয়। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন ফারুক ও কমিটির সদস্যরা, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলের কাছে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। পরে প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন এবং দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়ন কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version