Wednesday, November 4

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম দফায় দফায় বাড়লেও নির্ধারিত দামে মিলছে না ১২ কেজির সিলিন্ডার। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে তাঁদেরও। এর সঙ্গে রয়েছে সরবরাহ সংকট। ফলে রান্নার কাজে গ্যাস ব্যবহারকারী পরিবার থেকে শুরু করে হোটেল ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বাড়তি খরচের চাপে।

সোমবার (২ নভেম্বর) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। একই পরিমাণ সিলিন্ডারের দাম এর আগে গত ৪ অক্টোবর ২৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। নতুন নির্ধারিত দাম সোমবার রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়। ১২ কেজির পাশাপাশি ৫ থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়ানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুরের ২ ও ৬ নম্বর এবং আগারগাঁও, রামপুরা এলাকার ক্রেতা, ব্যবহারকারী ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আহমেদ সোহেল পরিবারের রান্নার কাজে প্রতি মাসে একটি ১২ কেজির সিলিন্ডার ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে তাঁদের তিনজনের পরিবার। প্রতি মাসে একটি সিলিন্ডার লাগে। কিন্তু গ্যাসের দাম নিয়মিত বাড়ছে। এর ওপর সরকারি নির্ধারিত দামেও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আগে ১২ কেজির সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১ হাজার ৮০০ টাকার মতো থাকলেও কিনতে হয়েছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। এখন সরকারি দাম ২ হাজার টাকার বেশি হওয়ায় বিক্রেতারা আড়াই হাজার টাকার বেশি চাইতে পারেন। এভাবে সবকিছুর দাম বাড়তে থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

মিরপুর-২ নম্বর এলাকায় হোটেল ব্যবসা করেন মো. শহিদুল ইসলাম। রান্নার কাজে তিনি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করেন। তাঁর ভাষ্য, আগে সরকারি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৫০ টাকার মতো থাকলেও ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ১৫০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। এখন দাম আরও বাড়ায় বিক্রেতারা বেশি টাকা চাইতে পারেন।

শহিদুল বলেন, তাঁরা সরাসরি ডিলারের কাছ থেকে গ্যাস কেনেন না। খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনতে হয় বলে সরকারি দামের চেয়ে বেশি টাকা দিতে হয়।

নিজের ব্যবসার খরচের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর দুটি চুলায় দুটি সিলিন্ডার ব্যবহার হয়। একটি রুটি এবং অন্যটি পরোটা তৈরির কাজে লাগে। প্রতি তিন দিন পরপর দুটি সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। এর সঙ্গে ময়দাসহ অন্যান্য উপকরণের দামও বেড়েছে। বর্তমানে ১০ টাকা করে পরোটা বিক্রি করলেও বাড়তি খরচে এই দামে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দাম বাড়ানো না হলে লোকসান গুনতে হবে। আর দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আগারগাঁও এলাকায় চা বিক্রি করেন ফখরুদ্দীন। তিনি জানান, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০০ টাকায় কিনেছেন। সেটি দিয়ে ১১ থেকে ১৩ দিন চলে। নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ায় এবার সিলিন্ডার কিনতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

ফখরুদ্দীন বলেন, চায়ের দাম বাড়ালে ক্রেতারা খেতে চাইবেন না। তাই গ্যাসের বাড়তি খরচ অন্য পণ্যের ব্যবসা থেকে পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

মিরপুর-৬ নম্বর এলাকার সাফোয়ান এন্টারপ্রাইজের এলপিজি বিক্রেতা মো. মামুন বলেন, বর্তমানে তাঁর কাছে পেট্রোম্যাক্স, ইউনি গ্যাস ও আই গ্যাসের ১২ কেজির সিলিন্ডার রয়েছে। তবে সব কোম্পানির সিলিন্ডার এখন পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি জানান, পেট্রোম্যাক্সের ১২ কেজি গ্যাসসহ সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার টাকা এবং অন্য কয়েকটি কোম্পানির সিলিন্ডারের দাম ৩ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে খালি সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিলের ক্ষেত্রে ইউনি গ্যাসের দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা। পেট্রোম্যাক্স ও আই গ্যাসের দাম ২ হাজার ৩০০ টাকা।

মামুন বলেন, বর্তমানে একটি সিলিন্ডার কিনতেই তাঁদের ২ হাজার ৩০০ টাকা খরচ হচ্ছে। এর সঙ্গে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা লাভ রাখতে হয়। কিন্তু ক্রেতারা বেশি দাম শুনে আপত্তি করেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে পণ্য কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে। আবার এক কোম্পানির খালি সিলিন্ডার দিয়ে অন্য কোম্পানির গ্যাস নেওয়া বা বিনিময় করা যায় না। ফলে বোতল বিনিময় নিয়েও ক্রেতাদের সঙ্গে ঝামেলা তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে গ্যাসের ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version