Tuesday, November 3

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা গ্রুপ) সঙ্গে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসীত গ্রুপ) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেলে থেমে থেমে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা গোলাগুলিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাচালং-সংলগ্ন লাঙ্গলমারা এবং দক্ষিণ ভাইবোনছড়ার রিজার্ভ ফরেস্টের মনের চূড়া এলাকায় এ গোলাগুলি হয়। তবে প্রাথমিকভাবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সাজেকের কলাবুনিয়া এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রোববার বিকেলে লাঙ্গলমারা ও দক্ষিণ ভাইবোনছড়ার রিজার্ভ ফরেস্টের মনের চূড়া এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে গোলাগুলি হয়। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যায়।

সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পরিচয় চাকমা বলেন, দক্ষিণ ভাইবোনছড়ার রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকার মনের চূড়ায় বিকেল সোয়া ৩টার দিকে গোলাগুলি হয়। এলাকাটি দুর্গম এবং আশপাশে কোনো বসতি না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

টানা দ্বিতীয় দিনের গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, লাঙ্গলমারা ও মনের চূড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গোলাগুলি চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে।

এর আগে শনিবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবুনিয়া এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের দাবি, ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের দুজন নিহত হয়েছেন। তবে কোনো সংগঠনই হতাহতের বিষয়টি স্বীকার করেনি।

পরপর দুই দিন সাজেকের দুর্গম এলাকায় পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে সংঘাত ও গোলাগুলির ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এদিকে রাঙামাটির সাজেক সড়কে এক দিনের জন্য অবরোধ কর্মসূচি শিথিলের ঘোষণা দিয়েছে দুটি সংগঠন। তবে এর বিরোধিতা করে পাল্টা অবরোধের ডাক দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকেরা। এতে সাজেক সড়কে যান চলাচল নিয়ে নতুন করে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার সকাল থেকে চালক ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে রাঙামাটি থেকে খাগড়াছড়িসহ আন্তজেলা বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version