Friday, October 30

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিখোঁজ হওয়ার আগে দ্বীপের সঙ্গে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন তাহসিফ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে দ্বীপকে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নৌ-পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় মাকে ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে কথা বলে আসি’ বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। এরপর আর ফেরেননি তিনি। পরদিন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দ্বীপ তাহসিফের বন্ধুর মতো ঘনিষ্ঠ ছোট ভাই। ঘটনার আগের রাতে তারা কোথায় গিয়েছিলেন, কী ঘটেছিল এবং কখন বাসায় ফিরেছিলেন—এসব বিষয়ে দ্বীপ জানান, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তারা একসঙ্গে ছিলেন। ওই সময় তাহসিফকে স্বাভাবিক ও হাসিখুশি দেখেছেন তিনি। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনাকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন দ্বীপ।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে তাহসিফের বাসার নিচের গ্যারেজে আসেন দ্বীপ। সেখানে প্রথমে মোটরসাইকেলে হেলমেট রাখেন তিনি। এরপর পাশেই নিজের পোশাক দিয়ে চোখ-মুখ মুছতে দেখা যায় তাকে।

কিছুক্ষণ পর বাসা থেকে নেমে গ্যারেজে আসেন তাহসিফ। সেখানে দ্বীপের সঙ্গে হাত মেলান তিনি। সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দুজনকে দুটি মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যেতে দেখা যায়।

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version