Thursday, October 8

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বেড়াতে এসে প্রতারণার শিকার হয়েছেন জার্মানির নাগরিক কিরিল লেন্ডার উইবার। নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কিনতে গিয়ে নিজের ম্যাকবুক ও ক্যামেরা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। চুরি যাওয়া জিনিসপত্র উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নিজের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে কিরিল বলেন, ‘ল্যাপটপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডেটা রয়েছে। বাংলাদেশে এটাই আমার প্রথম সফর। সর্বশেষ পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, বুধবার (৭ অক্টোবর) নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য এটিএম বুথে টাকা তুলতে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় নিজের জিনিসপত্র এক ব্যক্তির কাছে রেখে যান। ওই ব্যক্তি নিজেকে ট্রেনের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

টাকা তুলে ফিরে এসে কিরিল দেখেন, ওই ব্যক্তি ও তার জিনিসপত্র—দুটিই নেই। তার ব্যাগে ছিল ম্যাকবুক ও ক্যামেরা। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি রেলওয়ের কোনো কর্মকর্তা নন।

ঘটনার পর নাটোর থানায় বিষয়টি জানান কিরিল। তিনি বলেন, পুলিশ তাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে।

কিরিল বলেন, ‘কাজটি কঠিন, তবে আমার মনে হচ্ছে আমরা ধীরে ধীরে সঠিক অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে পুলিশ নিশ্চিত কোনো অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি। তবে আশা করছি, আমার জিনিসপত্র ফিরে পাব।’

বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত রাজশাহী রেলওয়ে থানায় ছিলেন এই জার্মান পর্যটক। এর আগে বুধবার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের একটি হোটেলে তার থাকার ব্যবস্থা করে পুলিশ। তাকে খাবারও সরবরাহ করা হচ্ছে।

রাজশাহী রেলওয়ে থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার পর নাটোর সদর থানায় জিডি করেন কিরিল। বিষয়টি নিয়ে নাটোর জেলা পুলিশ ও সান্তাহার জিআরপি কাজ শুরু করে। পরে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়।

ওসি বলেন, প্রথমে ল্যাপটপটির অবস্থান রাজশাহীর রেলগেট এলাকায় দেখা যায়। পরে রাত ১১টার দিকে পর্যটক রাজশাহীতে আসার পর ল্যাপটপটির অবস্থান মহিলা কলেজের আশপাশে দেখা যায়। এরপর রেলওয়ে পুলিশ, আরএমপির বোয়ালিয়া থানা, ডিবি ও র‍্যাবের সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান।

এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, মেস মালিক ও কেয়ারটেকারদের বিষয়টি জানানো হয়। তবে ল্যাপটপটিতে কোনো সিম না থাকায় সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। রাতে ল্যাপটপটির অবস্থানেরও কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। পরে এটি বিক্রি করে দেওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করা হয়।

ওসি মো. হাফিজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্ত হয়। ওই সময় তিতুমীর ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন সেখানে থাকার কথা ছিল। পরে ট্রেন দুটিতে তল্লাশি চালায় রেলওয়ে পুলিশ। তবে ল্যাপটপ বা ক্যামেরা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

চুরি যাওয়া জিনিসপত্র উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, সঠিক লোকেশন পাওয়া গেলে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশের মেহমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার জিনিসপত্র দ্রুত ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version