দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সব হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার হাসপাতালগুলোতে বাড়তি শয্যা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতাল চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কিছু রোগী জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও করা হবে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সভা শেষে হাসপাতালগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কিছু রোগী বার্ন ইউনিটে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালটি চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আরও শয্যা বাড়াতে বলা হয়েছে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিবর্তে কুর্মিটোলা মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাসপাতালকে রাজধানীর বাইরে থেকে আসা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
নুরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চাপ রাজধানীতেই বেশি। তাই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকদের শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংকটের সময় সরকারি হাসপাতাল রোগী ফিরিয়ে দেয় না। তবে রোগীর সংখ্যা হাসপাতালের শয্যা সক্ষমতা ছাড়িয়ে গেলে ভোগান্তি বাড়ে। এ কারণে ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোকেও প্রয়োজন অনুযায়ী রোগী গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০ হাজার ৩৫৬ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ২৮১ জন।
এ বছর ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে-১২৭ জন। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ২৪, চট্টগ্রামে ২৫, খুলনায় ৫৫, ময়মনসিংহে ২৩, রাজশাহীতে ১৯, রংপুরে ৬ এবং সিলেট বিভাগে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নারী ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
ম্যাংগোটিভি / আরএইচ


