Tuesday, September 29

দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন এবং একই কর্মকর্তা-কর্মচারীর বারবার বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এছাড়া সরকারি অফিসে সোলার প্যানেল স্থাপন, ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত করা, সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানি বন্ধসহ সচিবদের ২৩টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব/সচিবদের সমন্বয়ে সচিব সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের কাছে সিদ্ধান্তগুলো লিখিত আকারে পাঠানো হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, একাধিক কর্মস্থলে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্নীতি দমনে নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বারবার বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর আওতাধীন সব দপ্তর ও কার্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতি দুই মাস অন্তর অগ্রগতি প্রতিবেদন বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

সকল কর্মচারীর যথাসময়ে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব দপ্তর ও কার্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন করতে হবে। সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের হাজিরার তথ্য একটি একক ড্যাশবোর্ডে উপস্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

সরকারি দপ্তর ও কার্যালয়ের নিজ নিজ অধিক্ষেত্র নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে প্রতি ১৫ দিন পরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে। ইউএনও ওই প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসক বিভাগীয় কমিশনার এবং বিভাগীয় কমিশনার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবেন।

কোনো সরকারি কর্মচারী তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের তদবিরের বিষয় বিস্তারিত ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করতে হবে।

ডি-নথিতে বাস্তবায়নযোগ্য সব দাপ্তরিক কার্যক্রম গোপনীয়তা বজায় রেখে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। প্রাপ্ত চিঠি ও নথি সময়ক্ষেপণ না করে সচিবালয় নির্দেশমালা অনুযায়ী নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শূন্যপদ পূরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপ্রয়োজনীয় ও বিলুপ্তিযোগ্য পদ বিলুপ্তির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সেবা প্রত্যাশীদের বিনা হয়রানিতে যথাযথ সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থাকে নিজ নিজ সাংগঠনিক কাঠামো হালনাগাদ করতে হবে। এ বিষয়ে প্রতি তিন মাস অন্তর হালনাগাদ প্রতিবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সব সরকারি কর্মচারীর কর্মজীবন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। প্রতিটি ক্যাডারের পদসৃজন, বিলুপ্তি, গ্রেড উন্নীতকরণসহ ক্যাডার পদের সঠিক হিসাবসংবলিত বার্ষিক প্রতিবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করতে হবে।

আন্তঃসরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ভূমি ও আইনি বিরোধ যথাযথ প্রক্রিয়ায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রয়োজনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সহায়তা নিতে হবে। এক অফিস কর্তৃক অন্য অফিসের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রবণতা পরিহার করতে বলা হয়েছে।

সরকারি জমি বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে সময়োচিত পদক্ষেপ নিতে হবে। মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতাধীন অফিস ও সংস্থার অনুকূলে অধিগ্রহণ করা জমি সংশ্লিষ্ট অফিস বা সংস্থার নামে গেজেটে অন্তর্ভুক্তি ও নামজারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানোর ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষাসহ যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রেও রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর ১৬ ও ১৯ নম্বর রুল আবশ্যিকভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভার কমপক্ষে চার কার্যদিবস আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাব পাঠাতে হবে। ক্রয় প্রস্তাবসংবলিত সারসংক্ষেপ তৈরির সময় পিপিআর, ২০২৫-এর তফসিল ৭-এ দেওয়া নমুনা ছক অনুসরণ করতে হবে।

অর্থের সংস্থান ছাড়া কোনো ক্রয় প্রস্তাব বা ভেরিয়েশন প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বিবেচনার জন্য উপস্থাপন বা পাঠানো যাবে না।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কমিটিগুলো প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকার সময় সময় যে নির্দেশনা দিয়েছে, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

সবশেষে মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নিজ নিজ প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: জাগো নিউজ

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version