সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের রাজধানীর গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে আদালতের নির্দেশে মালামালের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযান চলাকালে একটি ফ্ল্যাট থেকে রোলেক্স ব্র্যান্ডের একটি বিলাসবহুল হাতঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দুদকের একটি যৌথ দল ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ করে। অভিযানে পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানান, আদালতের অনুমতি অনুযায়ী উপপরিচালক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ফ্ল্যাটে থাকা মালামালের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। পুরো কার্যক্রম শেষ করতে দুই দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, তল্লাশির সময় একটি রোলেক্স হাতঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ড পাওয়া যায়। কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঘড়িটি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি লন্ডনের একটি নামকরা বিপণিবিতান থেকে কেনা হয়। এটি ১৮ ক্যারেট সাদা সোনার তৈরি একটি রোলেক্স সেলিনি ডেট মডেলের ঘড়ি, যার সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার।
গুলশানের ৬৬ নম্বর সড়কের একই ভবনে অবস্থিত দুটি ফ্ল্যাটের মোট আয়তন প্রায় ৭ হাজার ৫৭৯ বর্গফুট। আদালতের আদেশে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটকে এসব ফ্ল্যাটের রিসিভার নিয়োগ করা হলেও ফ্ল্যাট দুটি তালাবদ্ধ থাকায় আগে সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তালা খুলে মালামালের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দুদক জানায়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে।
এর আগে আদালতের আদেশে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে তার নামে থাকা বিপুল সংখ্যক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া তার একাধিক ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারও জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একটি ব্যাংক থেকে ঋণের অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। এর আগে তিনি বিদেশে থাকা সম্পদ বৈধ ব্যবসার আয়ে অর্জিত বলে দাবি করেন এবং তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন।
