প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঠিক খাবার যেমন হার্ট ভালো রাখতে সহায়তা করে, তেমনি অতিরিক্ত লবণ, চিনি, অস্বাস্থ্যকর চর্বি ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশ্বজুড়ে হৃদ্রোগ ও অন্যান্য কার্ডিওভাসকুলার রোগ মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাবে, ২০২২ সালে এসব রোগে আনুমানিক ১ কোটি ৯৮ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতি বছর ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবস পালন করা হয়। এ দিবসের উদ্দেশ্য হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। হার্ট ভালো রাখতে ওষুধের পাশাপাশি খাবার, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম, ধূমপান ও ওজন নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বেশি রাখুন শাকসবজি ও ফল
হার্টের যত্নে খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও ফল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এসব খাবারে ফাইবার, ভিটামিন, মিনারেল ও বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিদিন প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত ৪০০ গ্রাম ফল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি মসুর ডাল, ছোলা, রাজমা ও অন্যান্য ডালজাতীয় খাবার নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে। পরিমিত পরিমাণে বাদাম ও বীজও খাদ্যতালিকায় রাখা যায়।
সাদা ভাতের পাশাপাশি পূর্ণ শস্য
শুধু পরিশোধিত শস্যের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যতালিকায় পূর্ণ শস্য যুক্ত করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ওটস, লাল চাল, আটার রুটি ও অন্যান্য পূর্ণ শস্য বেছে নেওয়া যেতে পারে।
২০২৬ সালের আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের খাদ্যবিষয়ক নির্দেশনাতেও পরিশোধিত শস্যের পরিবর্তে বেশি পূর্ণ শস্য খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাছ ও স্বাস্থ্যকর চর্বি
প্রোটিনের উৎস হিসেবে মাছ, ডাল, বাদাম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চর্বিহীন মাংস বেছে নেওয়া যেতে পারে।
রান্নায় মাখন, ঘি বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত উপাদানের পরিবর্তে পরিমিত পরিমাণে অসম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করা ভালো। স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট কমিয়ে অসম্পৃক্ত চর্বি গ্রহণের দিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
কোন খাবার কমাবেন?
হার্ট ভালো রাখার ক্ষেত্রে লবণ কম খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত সোডিয়াম উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ আবার হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে ৫ গ্রামের কম লবণ খাওয়ার পরামর্শ দেয়। তাই অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, প্যাকেটজাত নোনতা স্ন্যাকস, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং অতিরিক্ত সোডিয়ামযুক্ত সস ও মসলা কম খাওয়া উচিত।
একইভাবে অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি পানীয়, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত ভাজাপোড়া নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা ভালো। স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও বিশেষ করে শিল্পজাত ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবারও যতটা সম্ভব কমানো উচিত।
শুধু খাবার নয়, জীবনযাপনেও নজর দিন
হার্ট ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রার দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ ও তামাক বর্জনকে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
হার্ট ভালো রাখার জন্য কোনো একটি ‘সুপারফুড’ বা একদিনের ডায়েট যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল, ডাল, পূর্ণ শস্য ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখা এবং অতিরিক্ত লবণ, চিনি, স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট এবং অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোর ধারাবাহিক অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)
ম্যাংগোটিভি / আরএইচ


