Friday, September 18

পাবনায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ (৫৫) হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রামাণিক ওরফে বাঘাকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এসআরবির দাবি, বাঘা একটি নিষিদ্ধ ‘সর্বহারা গ্রুপের’ নেতা এবং তার নেতৃত্বেই ব্যবসায়ী আজিজকে হত্যা করা হয়। মাত্র ২৫ হাজার টাকার লোভে চারজন মিলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাঘা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

তিনি বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ডাঙ্গামারি গ্রামের স্থানীয় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ নিখোঁজ হন। ব্যবসার কারণে তার কাছে সবসময় নগদ টাকা থাকত বলে জানতে পারেন আসামিরা। নিখোঁজের পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় একটি পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা।

এসআরবি কর্মকর্তা জানান, দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে আব্দুল আজিজকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে রেখে যায়। পরে নিহতের স্বজন বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তে চারজন সন্দেহভাজনের সন্ধান পায় থানা পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, চারজন মিলে আব্দুল আজিজকে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি বাঘা নিজের অবস্থান বারবার পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিলেন।

একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নরসিংদীতে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এসআরবি-১১ ও এসআরবি-১২-এর যৌথ অভিযানে নরসিংদীর মাধবদী এলাকা থেকে বাঘাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাঘা নিজেকে একটি নিষিদ্ধ সর্বহারা গ্রুপের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ২৫ হাজার টাকার লোভে চারজন মিলে পরিকল্পনা করে ব্যবসায়ী আজিজকে হত্যা করেছেন বলেও তিনি স্বীকার করেছেন বলে দাবি বাহিনীটির।

গ্রেপ্তার বাঘাকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য পাবনার সাঁথিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version