বগুড়ার শাজাহানপুরে কুরিয়ার সার্ভিসের পার্সেল পরিবহনের আড়ালে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে চালক-হেলপারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি ট্রাক, কুরিয়ার পার্সেল ও তিনটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল জামালপুর এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পশ্চিম পাশে জনৈক ইউসুফের বাড়ির সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, বগুড়া জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে কুরিয়ার সার্ভিসের ডেলিভারি ভ্যানের আড়ালে বিশেষ কৌশলে মাদকের একটি চালান পাচার করা হবে। এর ভিত্তিতে উপপরিচালক মো. জিললুর রহমানের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে ঢাকা থেকে রংপুরগামী ঢাকা মেট্রো-অ-১১-৬৪৬১ নম্বরের ট্রাকটির কেবিন ও তিন আসামির দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় ১ হাজার ৯৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো খাকি রঙের কাগজের খামের ভেতর স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ১০টি নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিপ্যাকেটে ছিল।
এ ছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটি, ট্রাকের চাবি, গাড়ির ডেলিভারি চালান, চালান অনুযায়ী স্টেডফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডের পার্সেল এবং মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-ট্রাকচালক মো. রাছেল হাওলাদার (৩৬), হেলপার মো. রোকনুজ্জামান (৩৯) এবং মো. মকবুল হোসেন (২৫)।
রাছেল হাওলাদারের বর্তমান ঠিকানা ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায়। তার স্থায়ী ঠিকানা বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাজলাকাঠি এলাকায়।
রোকনুজ্জামানের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার শালাইপুর এলাকায়। আর মকবুল হোসেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মো. তাহিদুল আলম বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় নিয়মিত মামলা করেছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ইয়াবার এই চালানের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত চলছে। সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

