Thursday, October 22

ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। গত আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। বিনিয়োগের চাহিদা কম থাকা এবং ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর সতর্ক অবস্থানের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উদ্বৃত্ত অর্থের বড় অংশ ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে সরকারকে ঋণ দিতে ব্যবহার করছে ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল ৪ লাখ ২৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা। জুন শেষে তা ছিল ৪ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। একই বছরের জুন শেষে তা ছিল ২ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুন শেষে এ পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। খবর সমকালের।

উদ্বৃত্ত তারল্য মানেই অলস অর্থ নয়। আমানতের বিপরীতে বিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত (এসএলআর) সংরক্ষণের পর ব্যাংকের হাতে থাকা অর্থকে উদ্বৃত্ত তারল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বর্তমানে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোকে মোট আমানতের ১৩ শতাংশ এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ এসএলআর রাখতে হয়। ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে এ অর্থ সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া উভয় ধরনের ব্যাংককে আরও ৪ শতাংশ নগদ জমা অনুপাত (সিআরআর) রাখতে হয়।

ব্যাংকাররা জানান, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ হচ্ছে না। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাপ থাকায় ভালো ব্যাংকগুলোও ঋণ বিতরণে সতর্কতা অবলম্বন করছে। ফলে বেসরকারি খাতে বার্ষিক ঋণপ্রবৃদ্ধি কমে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে নেমেছে, যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কম।

এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ হিসেবে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের প্রতি ব্যাংকগুলোর আগ্রহ বেড়েছে। ফলে দীর্ঘদিন দুই অঙ্কে থাকা এসব ঋণপত্রের সুদহারও অনেক কমেছে।

ব্যাংকাররা আরও জানান, কয়েকটি ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে না পারায় মানুষের মধ্যে ব্যাংকে টাকা রাখার প্রবণতা কমে গিয়েছিল। এখন আবার ঘরে রাখা অর্থ ব্যাংকে ফিরছে। তবে এ অর্থ জমা হচ্ছে হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংকে। তুলনামূলক কম সুদ দিলেও সময়মতো টাকা ফেরত পাওয়ার প্রত্যাশায় গ্রাহকেরা ভালো ব্যাংকগুলোতে অর্থ রাখছেন।

এদিকে, আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতাদের স্বার্থ বিবেচনায় ঋণ ও আমানতের সুদহারের সর্বোচ্চ ব্যবধান বা স্প্রেড ৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে অনেক ব্যাংক এখনো এ নির্দেশনা অনুসরণ করছে না। এ বিষয়ে প্রচলিত হিসাব পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করছে ব্যাংকগুলো।

প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ বিতরণেও ধীরগতি

ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য বাড়লেও কম সুদের ঋণ বিতরণে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরাতে গত মে মাসে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে গত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ তহবিল থেকে বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ১১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা।

প্যাকেজের আওতায় বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে বিতরণ হয়েছে মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা। অন্যদিকে, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, সবুজ কারখানায় রূপান্তর, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা রপ্তানি এবং হিমায়িত চিংড়ি খাতের জন্য বরাদ্দ ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে কোনো অর্থই বিতরণ হয়নি।

ফলে একদিকে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য বাড়ছে, অন্যদিকে বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বিতরণে গতি ফিরছে না।

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version