Sunday, September 6

পতনের চাপ যেন কাটছেই না দেশের শেয়ারবাজারে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বড় ধরনের দরপতনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক কমেছে ১০৩ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট। পাশাপাশি এক দিনে বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ৬ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৫৮ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে ডিএসইএস ২২ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১৫ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২৪ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৬ দশমিক ১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বড় দরপতনের প্রভাব পড়েছে বাজার মূলধনেও। দিন শেষে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন কমেছে ৬ হাজার ৭৮১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৯টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে মাত্র ২০টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ৩৪৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১টির। অর্থাৎ লেনদেনে থাকা প্রায় ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে।

কমেছে লেনদেনও

দরপতনের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। রোববার ডিএসইতে মোট ৫৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৭২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ১৭৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বা প্রায় ২৪ শতাংশ।

গত কয়েক সপ্তাহের বাজারচিত্রও ছিল অস্থির। এর আগে টানা ছয় কার্যদিবসের পতনে ডিএসইএক্স ১৩৪ পয়েন্ট কমেছিল। পরে কয়েক দিন সূচক ঘুরে দাঁড়ালেও সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা স্থায়ী হয়নি।

গত সপ্তাহের শুরুতেও পতন দেখা যায়। রোববার সূচক কমেছিল ৪১ পয়েন্ট এবং সোমবার আরও ১৬ পয়েন্ট। পরে মঙ্গলবার ৩৯ পয়েন্ট ও বুধবার ২৩ পয়েন্ট বাড়ে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সামান্য ২ পয়েন্ট বাড়লেও নতুন সপ্তাহের প্রথম দিনেই বড় ধস নামে।

সিএসইতেও বড় পতন

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ছিল একই চিত্র। রোববার সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩০টির দর বেড়েছে। দর কমেছে ১৫৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৭টির।

এদিন সিএসইতে মোট ১৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৭১ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ১ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

বড় পতনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন

রোববারের বড় দরপতনের পেছনে তাৎক্ষণিক কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা আগে থেকেই রয়েছে। এসবের মধ্যেই এতদিন বাজারে লেনদেন চলেছে। ফলে এক দিনে এমন বড় দরপতনের পেছনে নতুন কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্বাভাবিক ওঠানামা শেয়ারবাজারের অংশ হলেও এক দিনে এত বড় পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগের।

দীর্ঘদিনের পতনের মধ্যে এমন ধস বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও কমিয়ে দিতে পারে।

বাজারের অস্থিরতা কাটাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এ অবস্থায় বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version