Friday, September 4

বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে কয়েকদিন ধরে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে ভোজ্যতেল বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

চলতি সপ্তাহে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হলেও বাজারে সরবরাহ সংকট কাটেনি। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে এখনো এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা গেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, সেগুনবাগিচা ও শান্তিনগরসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

নতুন নির্ধারিত দরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২০৪ টাকা হয়েছে। তবে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। তবে দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল বেশিরভাগ দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কোনো দোকানে সরবরাহ সংকটের সুযোগে পুরোনো দামের তেলও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

শান্তিনগর বাজারের খুচরা বিক্রেতা এনামুল হক বলেন, গত বুধবার নতুন দাম ঘোষণার পরও বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়েনি। নতুন দামের তেল বাজারে না আসা পর্যন্ত কোম্পানিগুলো স্বাভাবিকভাবে অর্ডার নিচ্ছে না।

দোকানিরা জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সরবরাহকারীরা পর্যাপ্ত তেল দিচ্ছেন না। কয়েক দফা অর্ডারের পর অল্প পরিমাণ তেল পাওয়া গেলেও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের মুদি দোকানি মো. তাহের বলেন, তেলের অর্ডার দিয়েও চাহিদামতো পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি ২০০ টাকার একটি তেলের বোতলে খুচরা বিক্রেতার কমিশন কমিয়ে দেড় টাকা করা হয়েছে।

এদিকে সয়াবিন তেলের পাশাপাশি রাজধানীর বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম ও মুরগি। প্রতি ডজন ব্রয়লার মুরগির ডিম ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি এলাকাভেদে প্রতি কেজি ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি।

তবে কিছু সবজির দাম কমেছে। ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০, পেঁপে ৩০, দেশি লাউ ৫০ থেকে ৭০, কচুর মুখি ৬০ থেকে ৭০ এবং করলা মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট পটল ও ঢেঁড়সের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি।

কাঁচা মরিচের দাম কমে ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে নেমেছে। তবে বরবটি, টমেটো, গাজর ও কাকরোলের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি।

পেঁয়াজের দামও কিছুটা কমেছে। আগে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version