চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের কোনো অর্থই ব্যয় করতে পারেনি সরকারের ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। ফলে জুলাই শেষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ১ শতাংশেরও নিচে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত এডিপি বাস্তবায়নের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই শেষে মোট ৩ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার এডিপি বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রথম মাসে বাস্তবায়নের হার মাত্র দশমিক ৬৯ শতাংশ। গত অর্থবছরের জুলাইয়েও একই হারে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল।
জুলাইয়ে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ। এ দুই বিভাগে মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
এ ছাড়া সেতু বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়েরও জুলাইয়ে উন্নয়ন ব্যয় ছিল শূন্য।
অন্যদিকে, বরাদ্দের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন। ২৯ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে সংস্থাটি ব্যয় করেছে সোয়া দুই কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ। সংসদ বিষয়ক সচিবালয়ের ব্যয়ের হার প্রায় ৭ শতাংশ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাড়ে ৫ শতাংশ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৫ শতাংশ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ বরাদ্দ ব্যয় করেছে।
পরিকল্পনা কমিশন ও আইএমইডির কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থবছরের শুরুতে সাধারণত প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজ ও কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে সময় লাগে। পাশাপাশি বর্ষার কারণেও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়। ফলে বছরের প্রথম দিকে ব্যয় কম থাকে।
এডিপি বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে সরকার নজরদারি জোরদার করেছে। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করছে। একই সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করে বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী মাসগুলোতে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এডিপি ব্যয়ের হারও বাড়বে।
ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

