দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে ৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট থেকে কোম্পানিটির কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই কোম্পানিটির ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ঋণদাতা ব্যাংকগুলো এলসি খোলার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে।
এর ফলে উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও রাসায়নিক আমদানি ব্যাহত হয়। পাশাপাশি দক্ষ শ্রমিকদের একটি বড় অংশ চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ায় তীব্র জনবল সংকট তৈরি হয়। কাঁচামাল ও রাসায়নিক সরবরাহের সমস্যা এবং জনবল সংকট—দুইয়ে মিলে শেষ পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি।
তবে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে জানিয়ে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস বলেছে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা আবার উৎপাদন শুরু করতে চায়। দ্রুত উৎপাদন শুরু করা সম্ভব না হলে কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস নতুন করে যুক্ত হওয়ায় ডিএসইতে বন্ধ বা অকার্যকর শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন ৩৫টি। ডিএসই সূত্র জানায়, কিছু কোম্পানি তাদের কার্যক্রমে সমস্যার কথা এক্সচেঞ্জকে জানিয়েছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান কারখানা বন্ধের তথ্য প্রকাশ করেনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিএসইর পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট কারখানার কার্যক্রম এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।
এসব কোম্পানির বেশির ভাগই ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করেছে। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এর চেয়েও দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় রয়েছে।
ডিএসইতে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা তালিকাভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রতিষ্ঠানটি ২০০২ সাল থেকে বন্ধ। এছাড়া বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস ২০১৬ সাল থেকে উৎপাদন কার্যক্রমে নেই।
বন্ধ কোম্পানির তালিকায় ইস্পাত, বস্ত্র, বিদ্যুৎ, সিমেন্ট, প্রকৌশল, সিরামিক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রাসায়নিক খাতের প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলসের আগে সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে একই গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠান অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালস ও এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেক।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এক্সচেঞ্জটিতে মোট ৩৬০টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত। এর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ১৬০টি, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৭৪টি এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে ১২৬টি কোম্পানি। বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানই ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে।
ম্যাংগোটিভি /আরএইচ
