তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর কারণ জানেন না তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল। তবে তাহসিফ মাঝেমধ্যে আশঙ্কার মধ্যে থাকার কথা তাঁকে বলতেন বলে জানিয়েছেন তিনি। কী নিয়ে তাঁর ছেলে আশঙ্কায় ছিলেন, তা জানতেন না বাবা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরায় নিজেদের বাসায় ছেলের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কথা বলেন কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল।
তিনি বলেন, ‘তাহসিফ মাঝেমধ্যে আমাকে বলতেন, সে একটু আশঙ্কার মধ্যে আছে। তবে কী নিয়ে আশঙ্কা, তা কখনো জানায়নি।’
ছেলেকে কেউ হুমকি দিয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো হুমকি-ধমকির কথা তাহসিফ তাঁদের জানায়নি। তবে মাঝেমধ্যে আশঙ্কার কথা বলত। তাহসিফের বাবা জানান, শৃঙ্খলাজনিত কারণে বিমানবাহিনীর চাকরি থেকে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে তাঁদের জানানো হয়। পরে তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), নেত্র নিউজ এবং সর্বশেষ ভার্গো টোব্যাকোতে কাজ করেছেন।
ছেলের স্বভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, তাহসিফ অত্যন্ত ভদ্র ও সামাজিক ছিল। সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল।
যেভাবে নিখোঁজ হন তাহসিফ
ছেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল বলেন, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার আগে তাহসিফ সারাদিন তার মায়ের সঙ্গে ছিল। কেনাকাটাও করেছে। বাবার জন্যও কিছু জিনিস কিনেছিল। তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর তাহসিফের এক জুনিয়র বন্ধু বাসার নিচে এসে তাকে ডাকে। তখন তাহসিফ তার মাকে বলে, ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে কথা বলে আসি।’ এরপর নিচে গেলেও আর বাসায় ফেরেনি।
তাহসিফের মা অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাননি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ মেসেজ দিয়ে লিখেছিল, ‘মমি আসছি।’ এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা আর তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি।
ছেলের খোঁজে থানায় যাওয়ার কথাও জানান বাবা। তাঁর ভাষ্য, বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে তুরাগ থানায় গেলে পুলিশ তাঁকে আশ্বস্ত করে জানায়, এ ধরনের কোনো খারাপ খবর নেই। পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা বললে তিনি তাহসিফের পরিচয় নিশ্চিত করে নদ থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর জানান।
মরদেহ উদ্ধারের স্থান সম্পর্কে তাহসিফের বাবা বলেন, ওই এলাকায় তাঁর ছেলে কখনো যেত না। এরপরও এমন ঘটনা ঘটে গেছে।
ছেলের মৃত্যুর পেছনে কারা জড়িত, তা জানেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কারা বা কে তাহসিফকে হত্যা করেছে, এটা আমরা জানি না।’
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নৌপুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে নৌপুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
ম্যাংগোটিভি / আরএইচ
