পুঁজিবাজারে ইনসাইডার ট্রেডিং, কারসাজি ও তথ্য ফাঁসের মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেছেন, বাজারে কোনো ধরনের কারসাজি বা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের যৌক্তিক সন্দেহ দেখা দিলে দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ না দিয়ে রিয়েল টাইম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার লেনদেনও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কমিশনের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। একই দিনে কমিশনের তিন নতুন কমিশনারও দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক উপস্থিত ছিলেন।
মাসুদ খান বলেন, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ৭ থেকে ১৪ দিন অপেক্ষা করা হতো। কিন্তু এখন থেকে কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং বা তথ্য ফাঁসের মতো গুরুতর বিষয়ে যৌক্তিক সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত তদন্ত ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এসব কর্মকাণ্ড আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
তিনি জানান, বিএসইসির তত্ত্বাবধানে স্টক এক্সচেঞ্জকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে। কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে ইনসাইডার ট্রেডিং, কারসাজি বা তথ্য ফাঁসের সন্দেহ দেখা দিলে প্রয়োজনে ওই কোম্পানির শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হতে পারে।
নতুন চেয়ারম্যান বলেন, বাজার তদারকির সময় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড শনাক্ত হলে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও বাজারের সততা রক্ষার প্রয়োজন দেখা দিলে দ্রুত লেনদেন স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তবে বিএসইসির উদ্দেশ্য কোনোভাবেই শেয়ারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা নয়।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য বাজারের স্বাভাবিক উত্থান-পতন থামানো নয়। আমরা ফেয়ার প্রাইস বা ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চাই। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য তথ্যের সমান প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে চাই।”
মাসুদ খান আরও বলেন, “মূল্য নির্ধারণ করবে বাজার, কারসাজিকারক নয়। সৎ বিনিয়োগকারী ও সৎ উদ্যোক্তাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে যারা বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করবে, বাজারে কারসাজি করবে কিংবা সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করবে, তাদের অতীতের তুলনায় আরও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”
তিনি বলেন, বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সিকিউরিটিজ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কমিশন সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাজার তদারকি ও আইন প্রয়োগ বিভাগকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, বিএসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সমন্বয়ে একটি আধুনিক সার্ভেইল্যান্স বা বাজার নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে রিয়েল টাইমে বাজার পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা থাকবে। যদিও পুরো বাজার তদারকির আওতায় থাকবে, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরির সিকিউরিটিজগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই বাজারে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়ে নতুন চেয়ারম্যান বলেন, একটি সুষ্ঠু, জবাবদিহিমূলক ও আস্থাভিত্তিক পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে কমিশন সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
ম্যাংগোটিভি /আরএইচ


