রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের দুই নারীসহ ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ
সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দীন সামি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দীন সামি জানান, গ্রেপ্তাররা হলেন তুলিয়া আক্তার ওরফে সুমি, দুলালী ওরফে মীম, মো. ওমর ফারুক, মো. শফিকুল ইসলাম শান্ত, সজল তালুকদার, ইয়াছিন, মো. নাছির খান, সাদ্দাম, মেহেদী হাসান শাহরিয়া, আজিজুল হাকিম টুটুল, মো. কামরুল ইসলাম ও মো. রাব্বি।

পুলিশ জানিয়েছে, চক্রের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করে টার্গেট ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলত এবং নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিত। প্রথম ঘটনার সময় ১১ জানুয়ারি ভোরে সায়েদাবাদ জনপদ মোড় এলাকা থেকে দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল কবরস্থান রোডের একটি বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে তাদের মারধর করে দুই নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তোলা হয় এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে নগদ ৪৮ হাজার টাকা, দুই ভরি স্বর্ণের চেইন, একটি হিরার আংটি এবং বিকাশ ও ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে এটিএম বুথ থেকে মোট ৫ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়।

দ্বিতীয় ঘটনার সময় ১৫ ডিসেম্বর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার হোসেন প্লাজার সামনে এক ব্যক্তিকে বাসায় নিয়ে গিয়ে ৬–৭ জন সদস্য মারধর করে ৮ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন। নগদ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা, এক ভরি ওজনের দুটি স্বর্ণের
আংটি এবং বিকাশে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়।

ডিসি মল্লিক আহসান সামি আরও জানান, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতাররা ধরা পড়েছেন। অভিযান শেষে নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা
হয়েছে।

গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পুলিশের আশা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতানোর চক্রের মূল সদস্যদের দ্রুত সনাক্ত ও দণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হবে।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version