উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্র বগুড়া। এখানে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় হাজারো শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের দাবি, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে এ অঞ্চল লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে শাহজাহানপুর উপজেলায় একটি ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার দাবি আবারও জোরালো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহজাহানপুর উপজেলার বীর গ্রামে প্রায় ২৫১ একর জমির ওপর ইকোনমিক জোন স্থাপনের প্রস্তাব বহু বছর আগে উত্থাপিত হয়। ভৌগোলিক অবস্থান ও সড়ক যোগাযোগের সুবিধা বিবেচনায় এলাকাটি শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উত্তরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে শিল্পায়নে বৈষম্যের শিকার। শাহজাহানপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ এগ্রিকালচার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বামমা) বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি সরকার বাদল বলেন, প্রায় ১৭ বছর ধরে উত্তরাঞ্চল শিল্প উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে। শাহজাহানপুরে ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু বগুড়া নয়, পুরো উত্তরবঙ্গ উপকৃত হবে।
স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের মতে, বগুড়ায় ইতোমধ্যে লৌহজাত ভারী শিল্প, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। দেশের মোট লৌহজাত পণ্যের বড় একটি অংশ এ অঞ্চল থেকে সরবরাহ হয় বলেও দাবি তাদের। তারা মনে করেন, উত্তরাঞ্চলে একটি শক্তিশালী ইকোনমিক জোন গড়ে উঠলে দেশীয় ভারী শিল্প আরও বিকশিত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইকোনমিক জোন স্থাপিত হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় কাঁচামালের কার্যকর ব্যবহার, রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে ওঠা এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ব্যবসায়ী মহলে হতাশাও রয়েছে। তারা দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে আঞ্চলিক উন্নয়নের স্বার্থে প্রস্তাবটি পুনর্মূল্যায়ন করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাদের আশা, বাস্তবায়ন হলে বগুড়াসহ পুরো উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ম্যাংগোটিভি /আরএইচ
