আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপকে আরও আকর্ষণীয় ও স্মরণীয় করে তুলতে নতুন ধরনের প্রাক-ম্যাচ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে ফিফা। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের পুরো স্কোয়াড মাঠের কেন্দ্রবিন্দুর চারপাশে অবস্থান করবে এবং তাদের পেছনে থাকবে নিজ নিজ দেশের বিশাল জাতীয় পতাকা।

ফিফা জানিয়েছে, এবার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় শুধু শুরুর একাদশ নয়, ম্যাচের জন্য নির্বাচিত সব খেলোয়াড়ই অনুষ্ঠানের অংশ হবেন। শিশু সঙ্গীদের নিয়ে বিশেষ প্রবেশদ্বার দিয়ে মাঠে প্রবেশের পর দুই দলের খেলোয়াড়রা মাঠের মাঝখানে একত্রিত হবেন। এরপর দল পরিচিতি ও জাতীয় সংগীতের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

এর আগে বিশ্বকাপে শুরুর একাদশের খেলোয়াড়রা শিশুদের সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করে গ্যালারির একপাশের দিকে মুখ করে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াতেন। তবে নতুন এই আয়োজনের মাধ্যমে স্টেডিয়ামের প্রতিটি দর্শককে অনুষ্ঠানের অংশ করে তুলতে চায় ফিফা।

গত বছর অনুষ্ঠিত ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপে শুরুর একাদশের খেলোয়াড়দের আলাদাভাবে মাঠে প্রবেশ করিয়ে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে এতে ম্যাচ শুরুর সময় বিলম্ব হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয় ফিফাকে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘৩৬০ ডিগ্রি প্রাক-ম্যাচ অনুষ্ঠান’ স্টেডিয়ামের সব দর্শকের জন্য সমানভাবে উপভোগ্য অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। উভয় দলের পূর্ণ স্কোয়াড উপস্থিত থাকলে অনুষ্ঠানে একসঙ্গে ৫২ জন পর্যন্ত খেলোয়াড় অংশ নিতে পারবেন।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বকাপ যত বড় হচ্ছে, দর্শকদের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করতে ততই নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় সংগীতের সময় খেলোয়াড় ও ম্যাচ কর্মকর্তারা মাঠের মাঝখানে একে অপরের মুখোমুখি অবস্থান করলে তা ঐক্য, গর্ব ও আবেগের এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি করবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপ প্রতিটি খেলোয়াড় ও সমর্থকের জন্য। নতুন এই আয়োজন সেই দর্শনকেই আরও সুন্দরভাবে তুলে ধরবে।

ফিফা জানিয়েছে, টুর্নামেন্টের নকআউট পর্ব ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে রঙিন ধোঁয়া, আলোকসজ্জা এবং আতশবাজির বিশেষ প্রদর্শনীও যুক্ত করা হবে। ফলে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী আয়োজন আগের যেকোনো আসরের তুলনায় আরও বর্ণিল ও দর্শনীয় হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version