আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে মোট ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৩২ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৪৯ জন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে প্রতীক বরাদ্দ শেষে দলভিত্তিক প্রার্থীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এর আগে মঙ্গলবার ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি ২৮৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যাদের প্রার্থী রয়েছে ২২৪টি আসনে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রয়েছে ২৫৩টি আসনে এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী রয়েছে ১৯২টি আসনে।
এ ছাড়া গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ৯০টি আসনে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী রয়েছে ৩২টি আসনে।
নির্বাচন কমিশন জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ৩০০টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় বাড়িয়ে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ওই দুটি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ২৭ জানুয়ারির পর যোগ হবে।
দলগুলোর মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপির ১২ জন প্রার্থী, জাতীয় পার্টি-জেপির ১০ জন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির ৬৫ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ২৮৮ জন, গণতন্ত্রী পার্টির ১ জন, জাতীয় পার্টির ১৯২ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের ৬ জন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২২৪ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির ২৬ জন, জাকের পার্টির ৭ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির ৫ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের ৮ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ১৩ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপির ২৩ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ৪ জন, গণফোরামের ১৯ জন, গণফ্রন্টের ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ-ন্যাপের ১ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির ৩ জন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ১৯ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ২ জন, ইসলামী ঐক্যজোটের ২ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩৪ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৩ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ২৬ জন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার ১ জন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ৭ জন, খেলাফত মজলিসের ২১ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএলের ৬ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) ২০ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফের ৮ জন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের ৮ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ১৮ জন, ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশের ৪২ জন, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদের ১১ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) ১৯ জন, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি)- ৩০ জন, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) ৯০ জন, নাগরিক ঐক্যের ১১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১৭ জন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির ২ জন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) ৮ জন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ১৫ জন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) ১২ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির ৩২ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) ২৯ জন, জনতার দলের ১৯ জন, আমজনতার দলের ১৫ জন, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টির (বিইপি) ১ জন ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ৩ জন প্রার্থী রয়েছেন।
বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৬০টি। এর মধ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে এবং দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এছাড়া নিবন্ধিত আটটি দল এবারের নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেয়নি।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধিত দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে হলে দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দ শেষে প্রকাশিত তালিকাই এখন চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
ম্যাংগোটিভি /আরএইচ
