পৌষের তৃতীয় সপ্তাহে এসে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা নওগাঁয় শুরু হয়েছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় শীতের দাপট বেড়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন, বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে নওগাঁ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এটি চলতি শীত মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ।
এর আগে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বাড়ে। রাতভর কুয়াশায় ঢেকে থাকে সড়ক ও আশপাশের এলাকা। সকালে সূর্যের দেখা মিললেও ঠান্ডা বাতাসে শীতের অনুভূতি রয়ে যায়।
নওগাঁ সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় এলাকার বাসিন্দা আহসান হাবিব বলেন, দিনের বেলায় রোদ থাকায় শীত কিছুটা কম মনে হয়। তবে সন্ধ্যা নামলেই গরম কাপড় পরতে হয়। রাতে ঘুমাতে দুই থেকে তিনটি লেপ-কম্বল ব্যবহার করতে হচ্ছে।
বরুনকান্দি এলাকার ভ্যানচালক আব্দুস সালাম বলেন, সন্ধ্যার পর ঠান্ডা বাতাসে ভ্যান চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। কুয়াশার কারণে সকাল পর্যন্ত যাত্রীও কম পাওয়া যায়।
নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু জার গাফফার জানান, ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও সিওপিডিতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই শতাধিক রোগী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। শিশু, মধ্যবয়সী ও বয়স্ক-সব বয়সী মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
এদিকে শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। নওগাঁ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আশেকুর রহমান জানান, প্রতিটি উপজেলায় অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য ৬ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ হিসাবে জেলার ১১ উপজেলায় মোট ৬৬ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ও জেলা পরিষদ থেকে ৩০ হাজার ৬০০টি কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যার বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
