এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা খাতে উন্নত নেটওয়ার্কিং সহযোগিতা জোরদারে ঢাকায় সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৬১তম এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাডভান্সড নেটওয়ার্ক (এপিএএন৬১) সম্মেলন। পাঁচ দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২৬ থেকে ৩০ জানুয়ারি ২০২৬।
সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। APAN (Asia-Pacific Advanced Network) গবেষণা ও শিক্ষার জন্য উন্নত নেটওয়ার্ক অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। এপিএএন-এর নিয়মিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘এপিএএন মিট’ গবেষণা নেটওয়ার্ক, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি খাতের অংশীজনদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত।
এপিএএন৬১ সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (BdREN) এবং Higher Education Acceleration and Transformation (HEAT) প্রকল্প। এতে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রদান করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (উইজিসি) ।
চলতি মাসের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার একটি হোটেলে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিডিরেন ( BdREN)-এর ভাইস-চেয়ারপারসন ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইয়্যিদুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এপিএএন-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিনজি শিমোজো। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিডিরেন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাওরিত।
উদ্বোধনী দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। নেদারল্যান্ডসের এসইউআরএফ-এর প্রতিনিধি কারিন ওয়েসেল উপস্থাপন করেন ‘Staying Connected: A Federated, Open Foundation for Global Research & Education Collaboration’ শীর্ষক প্রবন্ধ। অপরদিকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (BIDS)-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. আজরিন করিম এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনীতি বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
পাঁচ দিনব্যাপী সম্মেলনে ওয়ার্কিং গ্রুপ সেশন, স্পেশাল ইন্টারেস্ট গ্রুপ (এসআইজি) সভা, প্রযুক্তিগত ও গবেষণাভিত্তিক সেশন, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা, বোর্ড মিটিং, প্যানেল আলোচনা, জেনারেল অ্যাসেম্বলি, নেটওয়ার্কিং ডিনার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব সেশনে উন্নত নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, গবেষণা ডেটা ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষা ও গবেষণায় ডিজিটাল সহযোগিতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
সম্মেলনে ২০টি দেশের প্রতিনিধিসহ মোট ৩৫৫ জন অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে বিদেশি প্রতিনিধি ছিলেন ১০৭ জন এবং স্থানীয় অংশগ্রহণকারী ২৪৮ জন। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ জন উপাচার্য সম্মেলনে অংশ নেন। ২০১টি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ১২১টি সেশন ও ২৪টি কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন, যেখানে ১০১ জন আলোচক বক্তব্য রাখেন।
৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে দুটি কি-নোট উপস্থাপন করা হয়। একশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির লিঙ্গ-সমতা ভিত্তিক বাংলাদেশ বিষয়ে বক্তব্য দেন। পরে আচমাদ হুসনি থামরিন ‘ডিজিটাল অর্জন’ বিষয়ে কি-নোট উপস্থাপন করেন। এছাড়া বিভিন্ন সেশনের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন, ফেলোশিপ স্মারক ও ই-সার্টিফিকেট প্রদান এবং সমাপনী প্রতিবেদন পেশ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, এপিএএন৬১ সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গবেষণা ও শিক্ষা নেটওয়ার্কিংয়ে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। সম্মেলনের শেষ দিনে এপিএএন মিট-এর পরবর্তী আয়োজন এপিএএন৬২ -এর দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডের আয়োজকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আগামী ১০ থেকে ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে এপিএএন৬২ সম্মেলন।
