এমভিএনও বা মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর এমন এক ধরনের মোবাইল সেবা, যেখানে কোনো কোম্পানি নিজের টাওয়ার বা নেটওয়ার্ক অবকাঠামো না দিয়েই অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মোবাইল সেবা দেয়। তারা নিজেরা নেটওয়ার্ক তৈরি করেনা, কিন্তু বিদ্যমান নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভয়েস কল, ডেটা ইন্টারনেট, এসএমএস ইত্যাদি সেবা দিয়ে থাকে।
সম্প্রতি বাংলাদেশে বিটিসিএল এই মডেলেই নতুন সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। বিটিসিএল নিজস্ব নেটওয়ার্ক না থাকলেও টেলিটক বাংলাদেশের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাহকদের জন্য মোবাইল সেবা দেবে-এটাই এমভিএনও মডেল।
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, এই সেবা ব্যবহার করা খুব সহজ। প্রথমে বিটিসিএলের এমভিএনও সিম নিতে হবে এবং ‘আলাপ’ অ্যাপ ইন্সটল করতে হবে। ঘরে থাকলে ওয়াইফাই, বাইরে থাকলে মোবাইল ডেটার মাধ্যমে একই সেবা পাওয়া যাবে। এছাড়া গ্রাহকরা জীপন ব্রডব্যান্ড ও রাউটারের মাধ্যমে আনলিমিটেড ইন্টারনেট সুবিধাও পাবেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রাহকরা এই প্ল্যাটফর্মে নাটক, সিনেমা ও অন্যান্য ওটিটি কনটেন্ট দেখতে পারবেন। ভবিষ্যতে কোয়াড-প্লে সেবার মাধ্যমে একক সংযোগে ভয়েস কল, ডেটা, ব্রডব্যান্ড ও ডিজিটাল কনটেন্ট উপভোগ করা যাবে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব নিশ্চিত করেন, এটি পাইলট পর্যায়ে ইতোমধ্যে সফলভাবে চালু হয়েছে। নির্বাচনের পর রমনা ও গুলশান এলাকা থেকে বাণিজ্যিকভাবে সেবা শুরু হবে। ভবিষ্যতে সারাদেশে ফাইবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও বেশি গ্রাহক এই সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিটিসিএল গ্রাহকদের ডিজিটাল জীবনকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
গ্রাহক জরিপের তথ্য তুলে ধরে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মোবাইল ও ব্রডব্যান্ডের যৌথ প্যাকেজকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে, সেবার মান উন্নত হবে এবং ওটিটি কনটেন্ট পাইরেসি হ্রাস পাবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান, বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ম্যাংগোটিভি /আরএইচ
